দাবদাহের দুশ্চিন্তা কাটিয়ে মরসুমি বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরল পাট ক্ষেতে
বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ, ১৮ জুন: অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন মুর্শিদাবাদের লক্ষ লক্ষ পাট চাষি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মরসুমি বৃষ্টি শুরু হওয়ায় রাজ্যের বৃহত্তম পাট উৎপাদনকারী জেলার কৃষকদের মধ্যে ফিরেছে আশার আলো।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র দাবদাহ এবং প্রখর রোদে জেলার বিস্তীর্ণ পাট ক্ষেত মারাত্মক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছিল। শুষ্ক আবহাওয়ায় পাট গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছিল, যা কৃষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল।
বিশেষত উদ্বেগজনক ছিল পাট গাছের উচ্চতা স্বাভাবিকের তুলনায় কম হওয়া, পাতা শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতা, আঁশের মান নিয়ে সংশয়
বৃষ্টির অভাবে কৃষকরা বাধ্য হয়েছিলেন কৃত্রিম সেচের ব্যবস্থা করতে। এতে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। অনেক প্রান্তিক চাষি এই বাড়তি খরচ বহন করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন।
পশ্চিমবঙ্গের প্রধান অর্থকরী ফসল পাটের সবচেয়ে বেশি চাষ হয় মুর্শিদাবাদ জেলায়। এই জেলার পাট চাষের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- চাষের এলাকা: প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার হেক্টর
- জড়িত কৃষক: লক্ষাধিক পরিবার প্রত্যক্ষভাবে জড়িত
- পরোক্ষ কর্মসংস্থান: পাট শিল্পে আরও লক্ষাধিক মানুষ
- বার্ষিক উৎপাদন: রাজ্যের মোট পাট উৎপাদনের ৩৫-৪০%
সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া মরসুমি বৃষ্টি পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। মাঠ পর্যায়ের রিপোর্ট অনুযায়ী পাট গাছে নতুন প্রাণসঞ্চার, মাটিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ফিরেছে, গাছের বৃদ্ধি আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। মুর্শিদাবাদের পাট শুধু জেলার অর্থনীতির মেরুদণ্ড নয়, রাজ্যের পাট শিল্পের প্রাণকেন্দ্রও বটে। মরসুমি বৃষ্টির আগমন তাই শুধু কৃষকদের জন্যই স্বস্তির নয়, সমগ্র পাট শিল্পের জন্যই সুখবর।