সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (OBC) তালিকাভুক্তির বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের উপর সুপ্রিম কোর্ট স্থগিতাদেশ জারি করেছে, যা রাজ্য সরকারের জন্য একটি বড় স্বস্তি এনেছে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ হাইকোর্টের রায়কে ‘প্রাথমিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছে এবং এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্যে আটকে থাকা ভর্তি ও নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নিউজ ফ্রন্ট,নয়াদিল্লি, ২৮ জুলাইঃ
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (OBC) তালিকাভুক্তির বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের উপর আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে। দেশের শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই, বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রন এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জরিয়াকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে, যা রাজ্য সরকারের জন্য তাৎক্ষণিক ও উল্লেখযোগ্য স্বস্তি এনেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও হাইকোর্টের রায়:
এই মামলার সূত্রপাত হয় গত ১৭ জুন, যখন কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা একটি সংশোধিত ওবিসি তালিকা এবং ১৪০টি উপশ্রেণিতে সংরক্ষণের বিজ্ঞপ্তি কার্যকর করার উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করে। হাইকোর্ট তার রায়ে উল্লেখ করেছিল যে, রাজ্য সরকার ২০১০ সালের পর থেকে ৭৭টি মুসলিম সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে করা হয়নি এবং এটি ‘ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ’ বলে মনে হতে পারে। হাইকোর্ট এই অন্তর্ভুক্তির পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল এবং বলেছিল যে, এটি আইনসভার অনুমোদন ছাড়াই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে করা হয়েছে। এই রায়ের ফলে রাজ্যের বিভিন্ন নিয়োগ ও ভর্তি প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল।
কলকাতা হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। রাজ্যের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল শীর্ষ আদালতে সওয়াল করেন। শুনানির শুরুতেই তিনি হাইকোর্টের রায়ের উপর বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং বলেন,
“এটি আশ্চর্যজনক। হাইকোর্ট কীভাবে এমন আদেশ দিতে পারে? সংরক্ষণ নির্বাহী কার্যের অংশ।“
তিনি যুক্তি দেন যে, অনগ্রসর শ্রেণি চিহ্নিতকরণ এবং সংরক্ষণের বিষয়টি সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার আওতাধীন এবং হাইকোর্টের এই ধরনের স্থগিতাদেশ জারি করা নজিরবিহীন।
সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ কপিল সিব্বলের যুক্তি শুনে হাইকোর্টের রায়কে “প্রাথমিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ” (Prima facie erroneous) বলে মন্তব্য করেছে। আদালত বলেছে যে, হাইকোর্টের এই ধরনের স্থগিতাদেশ জারি করা ‘খুব অদ্ভুত’। প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই মন্তব্য করেন যে, ‘ইন্দিরা সাহনি’ মামলার রায় থেকে এটি প্রতিষ্ঠিত যে, অনগ্রসর শ্রেণিগুলি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে চিহ্নিত করা যেতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট ওবিসি কমিশনের বক্তব্য শুনতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে একটি নতুন বেঞ্চ গঠনের অনুরোধ করেছে, যাতে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত শুনানি হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের এই স্থগিতাদেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সাময়িক স্বস্তি পেল। এর ফলে রাজ্যে আটকে থাকা বিভিন্ন ভর্তি প্রক্রিয়া, বিশেষ করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের ভর্তি এবং বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলি পুনরায় চালু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এটি হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীর জন্য একটি বড় সুসংবাদ। আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে।
এই রায় রাজ্যের ওবিসি সংরক্ষণ নীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই রায়ের ফলে রাজ্য সরকার তার ওবিসি নীতি নিয়ে আপাতত এগিয়ে যেতে পারবে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হাইকোর্টের নতুন বেঞ্চের শুনানির পর এবং সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের উপর নির্ভর করবে।