নবদ্বীপ-মায়াপুরে রাসযাত্রায় মুখরিত নদিয়া, কোচবিহারে ২১৩ বছরের পুরনো মেলার সূচনা
কলকাতা, ৫ নভেম্বর: পবিত্র রাস পূর্ণিমা আজ। ভক্তি ও উৎসবের আনন্দে সারা পশ্চিমবঙ্গ আজ মুখরিত। শ্রীকৃষ্ণের রাসলীলার প্রতীকী উদযাপন হিসেবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে বৈষ্ণব তীর্থস্থানগুলিতে শুরু হয়েছে রাস উৎসব ও রাসযাত্রা। নদিয়ার নবদ্বীপ, মায়াপুর, শান্তিপুর থেকে শুরু করে উত্তর ২৪ পরগনা এবং কোচবিহার। সর্বত্রই চলছে বর্ণাঢ্য আয়োজন।
বৈষ্ণব সংস্কৃতির অন্যতম পীঠস্থান নদিয়া জেলায় রাস উৎসবের মাত্রা একটু বেশিই। নবদ্বীপ ও মায়াপুরের বিভিন্ন মন্দিরে আজ সকাল থেকেই ভক্তদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ফুল, বালি এবং রঙিন আলোকসজ্জায় সজ্জিত হয়েছে মন্দিরগুলি। কীর্তন, নামসংকীর্তন ও ভজনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে দিনের আয়োজন। সন্ধ্যায় বের হবে রাসযাত্রা, যেখানে শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ সজ্জিত রথে করে বের করা হবে শোভাযাত্রা। শান্তিপুরেও একইভাবে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
এদিকে, কোচবিহার জেলার মাদন মোহন মন্দিরের রাস উৎসবের এক বিশেষ ঐতিহ্য রয়েছে। আজ থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব ও মেলা দুশো তেরো বছরের পুরনো। প্রতিবছরের মতো এবছরও মন্দির প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে ১৫ দিনব্যাপী বিশাল মেলা। কোচবিহার রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় এই উৎসব আজও সমান জাঁকজমকের সঙ্গে পালিত হয়, যা দেখতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত ও পর্যটকদের ঢল নামে।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার শ্যামসুন্দর মন্দির এবং কাশীপুর রাজবাড়িতেও রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ও গ্রামাঞ্চলের ছোটখাটো মন্দির ও বাড়িতেও পালিত হচ্ছে এই উৎসব। অনেক জায়গায় স্থানীয়ভাবে মেলারও আয়োজন করা হয়েছে, যা উৎসবের আনন্দ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
মূলত, শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবনের রাসলীলার স্মরণে এই দিনটি পালিত হয়। ভক্তিমূলক এই উৎসব কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও এক অনন্য পরিচায়ক। ভক্তিতে মগ্ন হয়ে আজ সারা বাংলা সামিল হয়েছে এই পবিত্র উৎসবে।