ধারালিতে মেঘভাঙা বৃষ্টি, ত্রাণ ও উদ্ধারের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

নিউজ ফ্রন্ট | ৫ আগস্ট, ২০২৫

উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলার ধারালি অঞ্চলে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে সম্পূর্ণ একটি গ্রাম ভেসে গেছে। নিখোঁজ হয়েছেন বহু মানুষ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শোকপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের তত্ত্বাবধানে ত্রাণ ও উদ্ধারকার্য চলছে।

উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলার হরশিল সংলগ্ন ধারালি অঞ্চলে মঙ্গলবার ভয়াবহ মেঘভাঙা বৃষ্টি হয়, যার ফলে সম্পূর্ণ একটি গ্রাম পানির তোড়ে ভেসে যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ, এবং উদ্ধারকার্য জোরকদমে চলছে

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধারালির কাছে খীরগাড় এলাকা। হঠাৎ জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজার ও আশপাশের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবল স্রোতে নিমেষে ভেঙে পড়ে বহু গৃহ ও দোকানপাট।

ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) এর পক্ষ থেকে ৪ আগস্ট থেকেই উত্তরাখণ্ডের কিছু অংশ, যেমন উত্তরকাশী, পৌরি গাড়োয়াল, তেহরি এবং চামোলিতে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি বার্তা দেন:

উত্তরকাশীর ধারালিতে মেঘভাঙা বৃষ্টির ঘটনায় যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমি সমবেদনা জানাচ্ছি। সকলের নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করছি। আমি মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর ধামির সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছি। রাজ্য সরকারের তত্ত্বাবধানে ত্রাণ উদ্ধারকারী দলগুলো সমস্ত রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কাউকে সাহায্য থেকে বঞ্চিত রাখা হবে না।”

এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, এসডিআরএফ, এনডিআরএফ, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ উদ্ধারকাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সম্ভাব্য সবরকম সহায়তা প্রদান করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, তিনি ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখছেন এবং পরিস্থিতির উপরে নিবিড় নজর রাখছেন। দুর্গত এলাকার অবস্থা স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করতে তিনি নিজের পূর্বনির্ধারিত সফর বাতিল করে দ্রুত দেরাদুনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন

এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-ও। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং রাজ্য সরকারকে সমস্ত ধরনের কেন্দ্রীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে, এনডিআরএফ ও অন্যান্য ত্রাণ সংস্থাগুলিকে তাৎক্ষণিক কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এই মুহূর্তে, রাজ্য ও কেন্দ্র—উভয় স্তরে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার কাজ চলছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মানবিকতা এবং সংবেদনশীলতাকে প্রাধান্য দিয়ে দুর্গত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর সমস্ত চেষ্টা করা হচ্ছে।

এসডিআরএফ, এনডিআরএফ-এর বিশেষ বাহিনী ও রাজ্য প্রশাসনের তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান চলছে। নদীপাড় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পুলিশ মাইকিং করে বাসিন্দাদের সর্তক থাকার আবেদন জানিয়েছে।

অধিকাংশ মানুষ এই ভয়াবহ দুর্যোগে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। প্রশাসনের তরফে অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

সতর্কতা হিসাবে, স্থানীয় বাসিন্দাদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঘরের বাইরে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *