মুজফফরপুরে রাহুল–তেজস্বীর গর্জন, মোদীকে ‘অম্বানি-আদানির পুতুল’ আখ্যা কংগ্রেস নেতার


বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের তেজস্বী যাদবের সঙ্গে যৌথ সভায় কেন্দ্র ও রাজ্যের বিরুদ্ধে সরব রাহুল গান্ধী। মোদীকে আক্রমণ করে বললেন, তিনি জনগণের নয়, অম্বানি-আদানির ‘২৪ ঘণ্টার পুতুল’।
মুজফফরপুর, ২৯ অক্টোবর  
প্রায় দু’মাস পর বিহারের মাটিতে ফের প্রচারে নেমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে একযোগে তীব্র আক্রমণ করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার মুজফফরপুর জেলার সাকরা বিধানসভা কেন্দ্রের সভা মঞ্চ থেকে রাহুল বলেন, “নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি কেবল অম্বানি-আদানির ব্যবসা রক্ষার কর্মচারী। তাঁদের স্বার্থ রক্ষা করাই মোদীর একমাত্র কাজ।”

তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “মোদীজি যদি ভোট পেতে নাচতে বলা হয়, তিনি মঞ্চে নাচবেনও। কারণ তাঁর কাছে রাজনীতি মানে ভোট, জনসেবা নয়।”

রাহুলের দাবি, বিজেপি ও জেডিইউ-র জোট কেবল ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য একে অপরকে ব্যবহার করছে। নীতীশ কুমার সম্পর্কে বলেন, “২০ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী হলেও বিহারের চেহারা পালটায়নি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান সব ক্ষেত্রেই রাজ্য পিছিয়ে আছে। যাঁরা দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু এমনকি দুবাই গড়ে তুলছেন, তাঁরা নিজেদের রাজ্য বিহারকে কেন গড়তে পারবেন না?”

ছট পুজোকে কেন্দ্র করেও রাহুলের তোপ বিজেপিকে। তিনি বলেন, “একদিকে দূষিত যমুনার জলে মানুষ পুজো দিলেন, আর অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে তৈরি সুইমিং পুলে স্নান করলেন। যমুনা ও ছট পুজোর সঙ্গে তাঁর কোনও হৃদয়ের যোগ নেই, শুধু চোখে ধুলো দেওয়া।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি দেশে ভোট চুরির রাজনীতি চালাচ্ছে। “মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা যেখানেই ভোট হয়েছে, সেখানেই গণতন্ত্র লঙ্ঘিত হয়েছে। এবার বিহারেও তারা সেই চেষ্টা করবে। কিন্তু জনগণের রায় যেন প্রতিফলিত হয়, সেটাই আমাদের লড়াই।”

এদিনের সভায় রাহুলের পাশে ছিলেন আরজেডি নেতা ও মহাগঠবন্ধনের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তেজস্বী যাদব। তিনি বলেন, “এখন আর বিহার রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে চালানো যাবে না। দিল্লি থেকে নয়, বিহারের মানুষ নিজেরাই ঠিক করবে তাদের ভবিষ্যৎ।”

দু’জন নেতার এই যুগল গর্জনে মহাগঠবন্ধনের কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা গেছে। সভাস্থলে বিপুল ভিড় জমে এবং রাহুলের প্রতিটি বক্তব্যে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে সমাবেশ এলাকা।
রাহুল গান্ধীর এই ভাষণ স্পষ্ট করে দিল বিহার ভোটে বিজেপি-বিরোধী শক্তিগুলি আবার একজোট হয়ে লড়াইয়ের ময়দানে নামছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *