নিউজ ফ্রন্ট, বহরমপুর: জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা বিভাগের সহযোগিতায় এবং স্থানীয় গ্রন্থাগার কৃত্যক, মুর্শিদাবাদের উদ্যোগে রবিবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৫ তারিখে জেলার জেলা গ্রন্থাগার সেমিনার হলে পালিত হলো ‘পাবলিক লাইব্রেরি ডে’। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে গ্রন্থাগারের প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং বই পড়ার অভ্যাসকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে দিনব্যাপী এই সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানভিত্তিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে। বিশেষভাবে সক্ষম পড়ুয়ারা মূকাভিনয় ও সংগীত পরিবেশন করে সকলকে আবেগাপ্লুত করে তোলেন। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোরদের অঙ্কন প্রতিযোগিতা, গ্রন্থাগার কর্মীদের তাৎক্ষণিক বক্তৃতা এবং পাঠাভ্যাসকে কেন্দ্র করে আলোচনা সভা।
দিনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন বিভাগের সেরা পাঠক ও পাঠিকাদের পুরস্কার প্রদান এবং জেলার সেরা গ্রন্থাগারকে সম্মাননা দেওয়া। এছাড়া পাঠক-পাঠিকাদের কাছ থেকে অভিমত ও স্বাক্ষর সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয় এবং গ্রন্থাগারের উন্নতির স্বার্থে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বই দানের আবেদন জানানো হয়। এই অনুষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল স্থানীয় সংগঠন “গ্রন্থাগার কৃত্যক, মুর্শিদাবাদ।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি, শিক্ষা-তথ্য-ক্রীড়া ও সংস্কৃতি স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ, জেলা জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার আধিকারিক, ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগার আধিকারিক, জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাক্তন উপ-অধিকর্তা (গ্রন্থাগার পরিষেবা অধিকার) সহ বিশিষ্ট অতিথিরা।
আয়োজকদের বক্তব্যে জানানো হয় যে, গ্রন্থাগার শুধুমাত্র বই রাখার জায়গা নয়, এটি সামাজিক চেতনা ও সংস্কৃতির বিকাশের অন্যতম কেন্দ্র। পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার বার্তাও দেওয়া হয়।
দিনশেষে সমগ্র অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় এক অনন্য সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক মিলনমেলায়, যা মুর্শিদাবাদের গ্রন্থাগার আন্দোলনকে আরও গতিশীল করে তুলেছে। এই ধরনের অনুষ্ঠানগুলো শুধু দিবস পালনেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং সমাজের প্রতিটি স্তরে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুর্শিদাবাদের এই উদ্যোগ জেলার শিক্ষাব্যবস্থা ও সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা যায়।