মুখে প্রতিবাদ, কাজে আটক? এসআইআর (SIR) বিতর্কে তৃণমূল-পুলিশ আঁতাঁতের বিস্ফোরক অভিযোগ মুর্শিদাবাদে!

‘এসআইআর’ বিরোধী প্রচারে গিয়ে নিগ্রহ ও আটক! মুর্শিদাবাদে তৃণমূল-পুলিশ আঁতাঁতের অভিযোগে উত্তপ্ত রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিনিধি, মুর্শিদাবাদ: ভোটার তালিকা সংশোধনী বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ ভোটারদের হয়রানির অভিযোগ তুলে যখন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব, ঠিক তখনই মুর্শিদাবাদের গ্রামীণ এলাকায় এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রচার করতে গিয়ে তৃণমূলের নিচুতলার রোষের মুখে পড়লেন আন্দোলনকারীরা। অভিযোগ উঠেছে, আন্দোলনকারীদের কেবল নিগ্রহই করা হয়নি, বরং পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাদের আটকে রাখা হয়েছে।

গত চার মাস ধরে রাজ্যজুড়ে এসআইআর বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছে ‘পিপলস্ ব্রিগেড’। সংগঠনের অভিযোগ, বুধবার সকালে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর থানার রামপাড়ায় প্রচার চালানোর সময় সংগঠনের দুই নেতা কমরেড দেবজ্যোতি চক্রবর্তী এবং কমরেড সৌগত দত্তকে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী ও তাঁর অনুগামীরা ‘কিডন্যাপ’ করেন। ঘণ্টাখানেক পর তাঁদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পিপলস্ ব্রিগেডের কনভেনর কমরেড বাসুদেব নাগ চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, পুলিশ তাঁদের ফোন ও বাইক সিজ করেছে এবং কোনো সুনির্দিষ্ট ধারা ছাড়াই আটকে রেখেছে।

মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর (APDR)-এর রাজ্য নেতা রঞ্জিত সুর এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “তৃণমূল স্তরে শান্তিপূর্ণ প্রচার চালানোর সময় পঞ্চায়েত প্রধানের বাধার মুখে পড়েন দুই তরুণ কর্মী (যাদের মধ্যে একজন মহিলা)। পুলিশ তাঁদের রেজিনগর থানায় আটকে রাখলেও কেন আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিচ্ছে না।” এপিডিআর-এর পক্ষ থেকে বেলডাঙার এসডিপিও-র হস্তক্ষেপ দাবি করা হলেও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মুখে এসআইআর-এর বিরোধিতা করলেও আদতে তৃণমূল ও বিজেপি মিলে এই প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। তাঁদের মতে, তৃণমূলের এই বিরোধিতা কেবল একটি ‘নাটক’, যা রেজিনগরের এই ঘটনাতেই স্পষ্ট হয়ে গেছে।

এই বিষয়ে বেলডাঙার এসডিপিও উত্তম গড়াই নিউজ ফ্রন্টকে জানিয়েছেন, ” অভিযোগ ভিত্তিহীন ওরা গ্রামের মধ্যে কী করছিল, তার কোনো অনুমতি ছিল না। গ্রামবাসীরাই ওদের ধরে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ওদের গ্রেপ্তার করা হয়নি, আপাতত রেজিনগর থানায় আটকে রাখা হয়েছে।”

মুখ্যমন্ত্রী যখন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়াকে ‘চক্রান্ত’ বলে বর্ণনা করছেন, তখন তাঁরই দলের নিচুতলার কর্মীদের বিরুদ্ধে এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতাকারীদের দমানোর অভিযোগ ওঠায় অস্বস্তিতে শাসকদল। আন্দোলনকারীদের প্রশ্ন—যদি মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এসআইআর-এর বিরোধী হন, তবে তাঁর দলের কর্মীরা কেন এই আন্দোলনের বিরোধিতাকারীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে?
পিপলস্ ব্রিগেড এবং এপিডিআর যৌথভাবে অবিলম্বে ধৃতদের মুক্তি এবং এই ‘ফ্যাসিস্ট’ আচরণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে পথে নামার আহ্বান জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *