প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ৪৮ জন এমবিবিএস স্নাতক ও ৯ জন পিডিসিসি স্কলারকে ডিগ্রি প্রদান, দরিদ্রদের স্বাস্থ্যসেবার উপর জোর
আজ নদিয়ার কল্যাণী এইমসে (All India Institute of Medical Sciences) প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এই ঐতিহাসিক দিনে তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে প্রশংসাপত্র তুলে দেন এবং তাঁদেরকে দেশের গৌরবময় ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
নিউজ ফ্রন্ট, কল্যানী, ৩০ জুলাই ২০২৫: আজ নদিয়ার কল্যাণী এইমসের উদ্বোধনী সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী দ্রৌপদী মুর্মু। এই অনুষ্ঠানে তিনি ৪৮ জন এমবিবিএস স্নাতক এবং ৯ জন পোস্ট-ডক্টরাল সার্টিফিকেট কোর্স (PDCC) স্কলারকে ডিগ্রি প্রদান করেন। ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করা কল্যাণী এইমসের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর ভাষণে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “এই প্রতিষ্ঠান থেকে যারা স্নাতক হয়েছেন, তাদের অবশ্যই দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের স্বাস্থ্যসেবার দিকে নজর দিতে হবে এবং কল্যাণী এইমসকে জাতীয় গর্বে পরিণত করতে হবে।” তিনি চৈতন্য মহাপ্রভু, নীল দর্পণ-এর রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র, প্রখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী বাঘা যতীন এবং কল্যাণীর পরিকল্পনাকারী ও প্রতিষ্ঠাতা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের মতো মহান ব্যক্তিত্বদের উল্লেখ করে বলেন যে, কল্যাণী বহু মহান ব্যক্তিত্বের জন্ম দিয়েছে এবং এইমসকে সেই ঐতিহ্যকে বহন করে চলতে হবে।
তিনি আরও বলেন যে, স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে জিনগত প্রকাশ থাকতে পারে, তবে ডাক্তারদের অবশ্যই রোগীদের জীবনধারা সম্পর্কিত নির্দেশনা দিতে হবে। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, ভারত টিকাদান কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

এই অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ডঃ সি. ভি. আনন্দ বোস, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব, বন্দর, জাহাজ ও জলপথ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর, রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং কল্যাণী এইমসের কার্যনির্বাহী পরিচালক ডঃ রামজি সিং সহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর এই সফর এবং তাঁর অনুপ্রেরণামূলক বার্তা কল্যাণী এইমসের নতুন স্নাতকদের জন্য এক নতুন দিশা দেখাবে। দরিদ্রদের স্বাস্থ্যসেবা এবং দেশের ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে তরুণ ডাক্তারদের জন্য এক গভীর অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।