প্রতারক-মাদকপাচারকারীদের কোটি টাকার সম্পত্তি ফ্রিজ করল পুলিশ

অপরাধের টাকায় বিলাসবহুল প্রাসাদ, কড়া পদক্ষেপ মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের


 নিউজ ফ্রন্ট, মুর্শিদাবাদ | ১২ জুলাই, ২০২৫

অপরাধীদের অবৈধভাবে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে আরও এক সাহসী পদক্ষেপ নিল মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ। শনিবার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মোট তিনটি সম্পত্তি আইনতভাবে সংযুক্ত বা ফ্রিজ করা হয়েছে এই সম্পত্তিগুলি মূলত প্রতারণা, মাদক পাচার ও অপরাধমূলক উপার্জনের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির মোট মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকারও বেশি। এই সম্পত্তি গুলো এখন ব্যবহার করতে পারলেও কাওকে বিক্রি বা হস্তান্তর কড়া যাবে না।

তিনটি বড়সড় অভিযানে কী বাজেয়াপ্ত করা হলো?

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ীঃ

🔴 ঘটনা ১: ৩.৩৬ কোটির বিলাসবহুল বাড়ি বাজেয়াপ্ত
রানিনগর থানার মামলা নম্বর ৭৫৯/২৪ (তারিখ ২৩.১২.২০২৪)-এর তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্ত সাইবুর ইসলাম চৌধুরী ওরফে শুভ চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে জনসাধারণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের প্রমাণ মেলে। ওই টাকা ব্যবহার করে তিনি একটি বিলাসবহুল বাড়ি  নির্মাণ করেন যেটা বাইরে থেকে দেখতে প্রাসাদ মনে হবে, যার বাজার মূল্য আনুমানিক ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা। বিষয়টি বিচারাধীন থাকলেও বিচারক (Ld. ACJM, লালবাগ) উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ৪ জুলাই, ২০২৫-এ ১০৭ ধারায় সম্পত্তি সংযুক্ত করার নির্দেশ দেন।

সাইবুর ইসলাম চৌধুরী ওরফে শুভ চৌধুরীর বাড়ি

🔴 ঘটনা ২: মাদক পাচারে অর্জিত ৭৩ লক্ষ টাকার সম্পত্তি ফ্রিজ
NDPS আইন, ১৯৮৫-এর ৬৮(F) ধারায় আলিনগর, ডোমকলের বাসিন্দা আব্দুস রাজ্জাক মোল্লা ও তাঁর পরিবারের নামে থাকা ৭৩ লক্ষ টাকার সম্পত্তি ফ্রিজ করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, এই সম্পত্তি মাদক পাচার থেকে অর্জিত।

আব্দুস রাজ্জাক মোল্লার বাড়ি

🔴 ঘটনা ৩: আরও ৩৬ লক্ষ টাকার সম্পত্তি ফ্রিজ
একই ধারায় জলঙ্গি থানার ঘোষপাড়া মৌজার বাসিন্দা আনিউল হক মণ্ডলের নামে থাকা ৩৬ লক্ষ টাকার সম্পত্তিও ফ্রিজ করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধেও মাদক পাচারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

আনিউল হক মণ্ডলের বাড়ি

মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের এক পদস্থ কর্তা জানান, “এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল অপরাধীদের বেআইনি উপার্জনের উপর রাশ টানা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে উপার্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা। আইন অনুযায়ী সমস্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সম্পত্তিগুলি সংযুক্ত বা ফ্রিজ করা হয়েছে।”

মুর্শিদাবাদের ডোমকল, জলঙ্গি ও রানিনগর থানা এলাকার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বিগত কয়েক বছরে মাদক পাচার, সোনা চোরাচালান, মানব পাচার ও জালনোট র‍্যাকেট-এর আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, রাতের অন্ধকারে নদীপথ বা চোরাগলি পেরিয়ে এই সব সামগ্রী সীমান্ত পেরোয়।

পুলিশি রিপোর্টে দেখা গেছে, ফেনসিডিল ও ব্রাউন সুগার বাংলাদেশে পাচার হয় ডোমকল এলাকা থেকে। বিপরীতে সোনা ও জালনোট আসে বাংলাদেশের দিক থেকে। এছাড়াও মানব পাচার ও শিশু পাচার-এর চক্রও সক্রিয় রয়েছে।

অপরাধ দমন এবং বেআইনি সম্পদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ জেলা পুলিশের কার্যকর ভূমিকা এবং অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিরই প্রতিফলন। মুর্শিদাবাদের সাধারণ মানুষ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও এই ধরনের পদক্ষেপ আরও জোরদার করা হবে।মুর্শিদাবাদ সীমান্তজুড়ে অপরাধীদের আর্থিক সাম্রাজ্য ভাঙতেই পুলিশের এই উদ্যোগ। রাজনৈতিক মহল বলছে, ‘টপ টু বটম’ মাফিয়া রুটে যে মদত রয়েছে, তা নিয়েও তদন্ত হোক।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *