নিউজ ফ্রন্ট, পশ্চিম বর্ধমান, ১৪ অক্টোবর:
দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় বর্ষের এক চিকিৎসক পড়ুয়াকে গণধর্ষণ করার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পুলিশি তৎপরতা তুঙ্গে। আজ, মঙ্গলবার, ধৃত দুই মূল অভিযুক্ত শেখ রিয়াজউদ্দিন ও শেখ নাসির উদ্দিনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুর্গাপুর ও নিউটাউনশিপ থানার পুলিশের একটি যৌথ দল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের সঙ্গে বিজরা গ্রামেও নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তারা লুকিয়ে ছিল বলে ধারণা। অভিযুক্তদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং স্থানীয়দের কাছ থেকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এই ধাপের তদন্তের লক্ষ্য ছিল ঘটনাটির প্রতিটি ধাপ পুনর্নির্মাণ করা কীভাবে, কোথায় এবং কখন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল তা নির্ভুলভাবে বোঝা।
এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন আসানসোল–দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি অভিষেক গুপ্তা। তিনি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে অভিযুক্তদের সঙ্গে হাঁটেন, মেডিকেল কলেজের হোস্টেল ও সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। পরে নির্যাতিতার সহপাঠী বন্ধুকেও অকুস্থলে নিয়ে গিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত পর্যন্ত চলা জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা ঘটনার বিভিন্ন পর্যায়ে নিজেদের উপস্থিতি ও ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছিল। ফলে মঙ্গলবার সরেজমিনে পুনর্গঠনের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বের করার চেষ্টা চালানো হয়। এদিন বিকেল পর্যন্ত মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে ব্যাপক পুলিশি উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ফরেনসিক দলের সদস্যরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সম্ভাব্য প্রমাণ সংগ্রহ করেন।
পুলিশ সূত্রে আরও খবর, এই মামলায় বাকি অভিযুক্তদেরও একে একে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে তদন্তে কোনও ফাঁক না থাকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা জানিয়েছে, তারা ওই রাতে কলেজ হোস্টেলের বাইরে উপস্থিত ছিল এবং নির্যাতিতার গতিবিধি জানত। এই ঘটনায় গোটা দুর্গাপুর জুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে। স্থানীয় মানুষ ও ছাত্র সমাজ কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।