নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা, ২২ আগস্ট:
কলকাতায় আজ বিজেপির ডাকা ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’ ঘিরে উন্মাদনা। হাজার হাজার সমর্থকের ভিড়ের সামনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে তুলে ধরলেন উন্নয়ন ও আত্মনির্ভর ভারতের বার্তা। পাশাপাশি সরাসরি আক্রমণ শানালেন শাসক তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে। দুর্নীতি, অপরাধ, অনুপ্রবেশ—এই তিন ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সরকারকে একাধিকবার কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। এই জনসভা থেকে তিনি ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অপরাধ এবং স্বজনপোষণের গুরুতর অভিযোগ তোলেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, অপরাধ ও দুর্নীতিই তৃণমূলের পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মোদী বলেন, আজকের সময়ের মূলমন্ত্র ‘আত্মনির্ভর ভারত’। ইছাপুর অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরি করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাকিস্তানের সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংসে অপারেশন সিন্দূর-এর সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কেন্দ্র রাজ্যের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠালেও তার বড় অংশ তৃণমূল ক্যাডারদের পকেটে চলে যাচ্ছে, মানুষের কল্যাণে খরচ হচ্ছে না। তিনি বলেন, “ত্রিপুরা ও আসামে একসময় একই অবস্থা ছিল। বিজেপি সরকার আসার পর গরিবকল্যাণ প্রকল্পের সুবিধা ওরা পাচ্ছে। কিন্তু বাংলায় তৃণমূল থাকলে উন্নয়ন থমকে থাকবে।”
মোদীর দাবি, কংগ্রেস ও বামেদের পর মানুষ ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর আশায় পরিবর্তন চেয়েছিল, কিন্তু তৃণমূল আরও বেশি দুর্নীতি ও অপরাধের পরিবেশ তৈরি করেছে। তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূল যাবে, তবেই আসল পরিবর্তন আসবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুপ্রবেশকারীরা রাজ্যের যুব সমাজের কর্মসংস্থান কেড়ে নিচ্ছে, নাগরিকদের অধিকারে ভাগ বসাচ্ছে, এমনকি নারীদের সম্মানে আঘাত করছে। অভিযোগ, তৃণমূল ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির জন্য এদের আশ্রয় দিচ্ছে। তিনি প্রশ্ন করেন, “এখান থেকে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে হবে কি না? বিজেপি তাড়াবে, বিজেপিকে ভোট দিন।”
মোদী অভিযোগ করেন, দমদমের মতো এলাকাও স্মার্ট সিটি মিশন-এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে কারণ তৃণমূল সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পে যুক্ত হতে রাজি হয়নি। তিনি দাবি করেন, “বিজেপির কাছে বাংলার উন্নয়নের রোডম্যাপ আছে। তৃণমূল উন্নয়নের শত্রু।”
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের নিয়োগ দুর্নীতি, রেশন কেলেঙ্কারি এবং মন্ত্রীর গ্রেফতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রীরা গ্রেফতার হলেও পদ ছাড়েন না। জনগণের কথা ভাবেন না। দুর্নীতি করে জেলে গিয়েও মন্ত্রিত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন! এটা সংবিধানের অপমান।”
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি বিরোধী বিল তৃণমূল সংসদে আটকে দিয়েছে। বিজেপি সরকার বরদাস্ত করবে না— “দুর্নীতি করলে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিও থাকবে না।”
মোদী জানান, বিজেপি সরকারই বাংলা ভাষাকে ‘ধ্রুপদী ভাষা’-র মর্যাদা দিয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করাই বিজেপির লক্ষ্য।
বক্তৃতার শেষে তিনি বলেন, “বাংলার গৌরবের অতীত ফিরিয়ে আনতে হলে একটাই পথ— তৃণমূলকে সরাও, বাংলাকে বাঁচাও। বিকশিত বাংলা, মোদীর গ্যারান্টি।”