প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সফলভাবে ঘানা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও নামিবিয়া সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। শিল্পোন্নয়ন, স্বাস্থ্য, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং আন্তর্জাতিক জোটে অংশগ্রহণের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সিদ্ধান্ত হয়েছে এই সফরে।
নিউজ ফ্রন্ট, ১০ জুলাই, নয়াদিল্লি) –
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ সকালেই সফলভাবে পাঁচ দেশের কূটনৈতিক সফর সম্পন্ন করে দেশে ফিরেছেন। তাঁর এই সফর ঘানা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল এবং নামিবিয়া—এই পাঁচটি দেশে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে একাধিক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
সফরের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো:
ঘানা সফর (২–৩ জুলাই)
প্রথমবার কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ঘানা সফর করলেন। তিন দশকের ব্যবধানে এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত খুলল।
ত্রিনিদাদ ও টোবাগো সফর (৩–৪ জুলাই)
১৯৯৯ সালের পর এই প্রথমবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক সফর। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং সংস্কৃতিগত বন্ধনের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
আর্জেন্টিনা সফর (৪–৫ জুলাই)
প্রেসিডেন্ট মিলেই-এর সঙ্গে আলোচনায় কৃষি, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত হয়।
ব্রাজিল সফর (৫–৮ জুলাই)
রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত ১৭তম ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় প্রেসিডেন্ট লুলার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বৈঠক হয়।
নামিবিয়া সফর (৯ জুলাই)
প্রথমবারের মতো মোদী নামিবিয়া সফর করলেন। শিল্পোন্নয়ন ও স্বাস্থ্য খাতে যৌথ উদ্যোগ নিতে দুটি সমঝোতা চুক্তি সই হয়।
Coalition for Disaster Resilient Infrastructure (CDRI) ও Global Biofuel Alliance-এ নামিবিয়ার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।
ভারতীয় মডেলে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম (UPI) চালু হবে নামিবিয়ায়।
নামিবিয়ার সংসদে ভাষণ দিয়ে মোদী বলেন, “আফ্রিকাকে পণ্য উৎপাদনের জোগানদাতা নয়, বরং মূল্যবোধ ও টেকসই উন্নয়নের দিশারী হিসেবে দেখা উচিত।” তিনি আফ্রিকান ইউনিয়নের Agenda 2063-এর প্রতি ভারতের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই সফর ভারতের দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করল এবং গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্বে ভারতের ভূমিকা নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।