শিক্ষক কে ঘিরে বিক্ষোভ অভিভাবকদের ,বহরমপুরে স্কুলে ধুন্ধুমার, পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ

নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর | ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বসে ধূমপান, খুদে পড়ুয়াদের দিয়ে গা-হাত-পা টেপানো (মাসাজ), এমনকি শাস্তি দেওয়ার নাম করে বাক্সে বন্দি করে রাখা—এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমনই সব শিউরে ওঠার মতো অভিযোগ ঘিরে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল বহরমপুর থানার অন্তর্গত হাতিনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়। অভিযুক্ত শিক্ষক কৌশিক বিশ্বাসকে ঘিরে অভিভাবকদের বিক্ষোভ চরমে পৌঁছলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমা হচ্ছিল অভিভাবকদের মনে। এদিন সকালে অভিভাবকরা স্কুলে চড়াও হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষক কৌশিক বিশ্বাস নিয়মিত স্কুলে আসেন না। আর যখন আসেন, তখন তিনি শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করেন।

এক অভিভাবক ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “উনি ক্লাসে বসে বাচ্চাদের সামনেই ধূমপান করেন। ছোট্ট বাচ্চাদের দিয়ে নিজের গা-হাত-পা টেপানোর মতো জঘন্য কাজ করান। বাচ্চারা দুষ্টুমি করলে তিনি যে শাস্তি দেন, তা অমানবিক। বাক্সে বন্দি করে রাখার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছেন।”

স্কুল চত্বরে বিক্ষোভ ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে খবর দেওয়া হয় থানায়। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বহরমপুর থানার পুলিশ। পুলিশ গিয়ে উত্তেজিত অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পুলিশের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জীব মণ্ডল নিজেও ওই সহকর্মীর বিরুদ্ধে অসহায়তার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমকে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক কৌশিক বিশ্বাস নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যা খুশি তাই করেন। বারবার বারণ করা সত্ত্বেও তিনি শোনেন না।

পুলিশ ও অভিভাবকদের সামনে অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক কৌশিক বিশ্বাস। তাঁর দাবি, “আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে রটানো হচ্ছে। এগুলো সব চক্রান্ত।”

তবে পুলিশের উপস্থিতিতে অভিভাবকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অবিলম্বে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তাঁরা আরও বড় আন্দোলনে নামবেন। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। বহরমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক উদয় শঙ্কর ঘোষ বলেন “ বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি, পরিস্থিতি এই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রনে রয়েছে”

এই ঘটনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবকরা ২ টি অভিযোগ জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক( প্রাথমিক) অপর্ণা মণ্ডল কে পাঠিয়েছেন। যদিয় বিদ্যালয় পরিদর্শক বলেন এখনো পর্যন্ত আমদের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ এসে পৌছায় নি। অভিযোগ এলে আমারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *