নিউজ ফ্রন্ট | হরিহরপাড়া, মুর্শিদাবাদ | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
হরিহরপাড়া ব্লকের রাজনীতিতে বড়সড় রদবদল। কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন হরিহরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা ও ব্লক কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি বিজয় সেখ। শনিবার সন্ধ্যায় বিহারিয়া অঞ্চলের গোবিন্দপুর মোড়ে এক সংবর্ধনা সভায় স্থানীয় বিধায়ক নিয়ামত সেখের হাত ধরে তৃণমূলের পতাকা তুলে নেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য জিল্লার রহমান, ব্লক তৃণমূল সভাপতি জসিমউদ্দিন সেখ ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মির আলমগির সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, শুধু বিজয় সেখ নয়—সঙ্গে কংগ্রেসের প্রায় ৪০০-৫০০ সক্রিয় কর্মীও এদিন তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি সিপিএমের প্রতীকে নির্বাচিত বিহারিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের এক সদস্য সহ শতাধিক সিপিএম কর্মীও ঘাসফুল শিবিরে নাম লিখিয়েছেন।

বিধায়ক নিয়ামত সেখ বলেন, “বিজয়বাবু বেশ কিছুদিন ধরেই কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখছিলেন। আজ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের দলে এলেন। কংগ্রেস, সিপিএম ও বিজেপি থেকেও অনেকে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।”
বিজয় সেখ বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে হরিহরপাড়ার মাটিতে কাজ করেছি। আমার মনে হয়েছে, যিনি সত্যিকারের নেতৃত্ব দিতে পারেন, তাঁর সঙ্গে থাকলে মানুষের জন্য বেশি কিছু করা সম্ভব। আমি যোগ্য বিধায়ক, যোগ্য ব্লক সভাপতি, ও যুব নেতৃত্ব পেয়েছি। সেই কারণেই আজ তৃণমূলের পতাকা ধরেছি।”
বিজয়ের দলত্যাগ নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরে ক্ষোভ থাকলেও, প্রকাশ্যে অনেকটাই নির্লিপ্ত প্রতিক্রিয়া এসেছে। হরিহরপাড়া ব্লক কংগ্রেস সভাপতি জুলফিকার আলি খান বলেন, “বিজয়বাবু অনেক আগেই কার্যত কংগ্রেস ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আজ তা বাস্তবায়িত হল। তবে কিছু ব্যক্তি দল বদল করলেও কর্মীরা কংগ্রেসেই আছেন।”

এই প্রসঙ্গে বহরমপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রাক্তন সাংসদ ও প্রদেশ কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী অভিযোগ করেন, “তৃণমূল কংগ্রেস কংগ্রেসের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভয় দেখিয়ে, প্রলোভন দেখিয়ে, চাপ সৃষ্টি করে দল বদলাতে বাধ্য করছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।”
উল্লেখ্য, হরিহরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির ৩০টি আসনের মধ্যে ২৮টিতেই জিতেছে তৃণমূল। মাত্র দুটি আসন দখল করেছিল কংগ্রেস, যার একটিতে ছিলেন বিজয় সেখ। তাঁর দলত্যাগের পর পঞ্চায়েতে কার্যত বিরোধী শূন্য অবস্থা তৈরি হল।
এই দলবদল শুধু একটি ব্যক্তির রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন নয়, বরং হরিহরপাড়ার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। সামনে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্বে এই যোগদান রাজ্য রাজনীতির পটভূমিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।