বাংলাদেশে শেখ হাসিনার অপসারণের এক বছর পর চরম অস্থিরতা, সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ও গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ

নিউজ ফ্রন্ট, ঢাকা, ৫ আগস্ট:

বাংলাদেশের দীর্ঘতম সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী থাকা শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির ঠিক এক বছর পর, অর্থাৎ ৫ই আগস্ট, ২০২৪-এর পর, দেশটি এখনও ব্যাপক অস্থিতিশীলতা এবং অস্থিরতার সঙ্গে সংগ্রাম করছে।

শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক বিশাল প্রতিবাদ আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়েছিল।  প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অপসারণের পর নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। এই সরকার ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

এই এক বছরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়—বিশেষত  হিন্দুদের উপর হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সংখ্যালঘু অধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যে জানা গেছে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই ২৫৮টিরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সংবাদমাধ্যমের উপর দমন-পীড়নের মাত্রাও বেড়েছে। কানাডা-ভিত্তিক ‘গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নেন্স’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্ট ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৫-এর মধ্যে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ৬৩৭ জন, যার মধ্যে ৪১ জন পুলিশকর্মীও রয়েছেন। ২০২৩ সালে শেখ হাসিনার শাসনকালে এ ধরনের মৃত্যুর সংখ্যা ছিল মাত্র ৫১।

রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালাইসিস গ্রুপ-এর আরেকটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, ইউনূসের অধীনে আগস্ট ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৫-এর মধ্যে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ২৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা হাসিনার সময়ের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার সংখ্যা ৫৫৮% বেড়েছে—আগে যেখানে ৩৫টি মামলা ছিল, সেখানে এক বছরে তা বেড়ে হয়েছে ১৯৫টি।

এদিকে, এক বিবৃতিতে শেখ হাসিনা দাবি করেছেন, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কখনও পদত্যাগ করেননি এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে বলেন— “ন্যায়বিচার, শান্তি ও ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যান।”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে, তা এখনও অনিশ্চিত। তবে এতটুকু স্পষ্ট—হাসিনার অপসারণের এক বছর পর দেশজুড়ে অস্থিরতা, সহিংসতা এবং মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *