কলকাতায় অলিম্পিক নক্ষত্র কেনি বেডনারেক

কলকাতা, ১৮ই ডিসেম্বর, ২০২৫:

টাটা স্টিল ওয়ার্ল্ড ২৫কে (TSW25K) কলকাতার দশম সংস্করণের আবহে শহর এখন অ্যাথলেটিক্স জ্বরে কাঁপছে। এই উন্মাদনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে তিলোত্তমায় পা রাখলেন অলিম্পিক রূপো জয়ী আমেরিকান স্প্রিন্ট মহাতারকা কেনি বেডনারেক। প্রতিযোগিতার আন্তর্জাতিক ইভেন্ট অ্যাম্বাসেডর হিসেবে এসে তিনি জানালেন, ভারতের ক্রমবর্ধমান ফিটনেস সংস্কৃতি এবং দৌড়ের প্রতি মানুষের ভালোবাসা দেখে তিনি অভিভূত।

এদিন কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বেডনারেক তাঁর সাফল্যের নেপথ্য কাহিনী তুলে ধরেন। তাঁর মতে, বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় পারফর্ম করতে গেলে প্রতিভার চেয়েও বেশি প্রয়োজন মানসিক দৃঢ়তা।

বেডনারেক বলেন, আপনি শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকতে পারেন বা দারুণ প্রতিভাশালী হতে পারেন, কিন্তু দৌড়ের দিন যদি মানসিকভাবে শক্তিশালী না হন, তবে সব বৃথা। স্প্রিন্টিং আসলে ৯০ শতাংশই মানসিক শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, নিজের ওপর বিশ্বাস এবং রিকভারির ওপর নির্ভরশীল।”

জিডি বিড়লা সেন্টার ফর এডুকেশন-এর পড়ুয়াদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় তিনি বলেন, আমি সব সময় শিখতে চাই। জেতার পরেও আমি আমার টিমের কাছে জানতে চাই, কোথায় আরও উন্নতি করা সম্ভব। পৃথিবীতে নিখুঁত (Perfection) বলে কিছু নেই, আছে শুধু ক্রমাগত প্রগতি (Progress)।”

ভারতীয় অ্যাথলিটদের সম্ভাবনা নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী এই অলিম্পিক পদকজয়ী। তিনি মনে করেন, সঠিক পরিকাঠামো পেলে ভারত বিশ্বের দরবারে আরও বড় জায়গা করে নেবে।

“ভারতে প্রচুর প্রতিভা রয়েছে। সঠিক কোচিং, উন্নত ট্রেনিং স্ট্রাকচার এবং রিকভারি সিস্টেম থাকলে এখানকার অ্যাথলিটরা বিশ্বমঞ্চে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করতে পারবে।”

তিনি আরও জানান, ভারতের খেলাধুলার প্রতি যে আবেগ (সেটা ক্রিকেট হোক বা অ্যাথলেটিক্স) তা অসাধারণ। এই ধরণের ইভেন্টগুলো মানুষকে এক সুতোয় বাঁধে।

টোকিও ২০২০ এবং প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিকে পুরুষদের ২০০ মিটার দৌড়ে রূপো জয়ী এই অ্যাথলিট বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম মানব। তাঁর ব্যক্তিগত সেরা সময় ১৯.৪৯ সেকেন্ড। উসেইন বোল্ট পরবর্তী যুগে আমেরিকান স্প্রিন্টারদের জয়জয়কার নিয়ে তিনি বলেন, আমেরিকার ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল এবং ঘরের মাঠে পরবর্তী অলিম্পিক তাঁদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

আগামী রবিবার (২১শে ডিসেম্বর) টাটা স্টিল ওয়ার্ল্ড ২৫কে-র রেস ডে। কয়েক হাজার মানুষের সঙ্গে একই রাস্তায় নামবেন এলিট অ্যাথলিটরা। বেডনারেক বলেন, এটি শুধু একটি দৌড় নয়, এটি একটি উৎসব। হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে এলিট অ্যাথলিটদের সঙ্গে একই রাস্তায় দৌড়াতে দেখাটা অনুপ্রেরণাদায়ক। আমি রবিবার রেড রোডে দাঁড়িয়ে সবাইকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *