মেটাল ডিটেক্টর নয়, জোর সচেতনতায়; ২০২৬ মাধ্যমিক নিয়ে কড়া বার্তা পর্ষদ সভাপতির


নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর: ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি তুঙ্গে। পরীক্ষার্থীদের জন্য ভীতিমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনতে একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি ড. রামানুজ গাঙ্গুলি। বুধবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতি সভায় তিনি স্পষ্ট করেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে মেটাল ডিটেক্টর বসিয়ে পড়ুয়াদের মনে আতঙ্ক তৈরি করার পক্ষপাতী নয় পর্ষদ। বরং জোর দেওয়া হচ্ছে সচেতনতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ওপর।
এদিন জেলা প্রশাসন, ডিআই (DI), এআই (AI) এবং বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রের সেন্টার ইন-চার্জদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন পর্ষদ সভাপতি। বৈঠকের পর ‘নিউজ ফ্রন্ট’-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে উঠে আসে আসন্ন মাধ্যমিক পরীক্ষার রূপরেখা।

পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল বা গ্যাজেট রুখতে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহারের প্রস্তাব উঠলেও তা খারিজ করে দিয়েছেন পর্ষদ সভাপতি। ড. রামানুজ গাঙ্গুলি বলেন, “বাচ্চাদের ফ্রিসকিং করা বা মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালানোর মতো ব্যবস্থা তাদের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করতে পারে। আমাদের মূল লক্ষ্য বাচ্চারা যেন সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারে। তাই মেটাল ডিটেক্টরের বদলে আমরা পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের সচেতনতার ওপরেই বেশি জোর দিচ্ছি। পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল বা গ্যাজেট নিয়ে আসা নিষিদ্ধ এই বার্তাটি অভিভাবকদেরই নিশ্চিত করতে হবে।”
প্রশ্নপত্র ফাঁস বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ভাইরাল করার প্রবণতা রুখতে এবারও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে পর্ষদ। সভাপতি জানান, যারা পরীক্ষা দেওয়ার বদলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করার মানসিকতা নিয়ে কেন্দ্রে আসে, তাদের রেয়াত করা হবে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কারও যদি উদ্দেশ্য থাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করা, তবে তার পরীক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এই ধরনের প্রবণতা দেখলেই আমরা নির্দ্বিধায় ওই পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেব। বোর্ড এই বিষয়ে কঠোর এবং আপোষহীন।”
তিনি স্বস্তির সঙ্গে জানান, গত বছর মুর্শিদাবাদ জেলা সহ গোটা রাজ্যে এই ধরণের ঘটনা প্রায় ঘটেইনি। পর্ষদের কড়া পদক্ষেপের ফলেই এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করেন তিনি।
পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতে কোনও নির্দিষ্ট পরীক্ষার্থীকে অনৈতিক সুবিধা (Entertainment) না দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করতে ২০২৩ সাল থেকেই সিসিটিভি নজরদারি চালু হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে ‘এডিশনাল ভেন্যু সুপারভাইজার’ এবং প্রশাসনের তরফে ‘এডিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট’ নিয়োগ করা হচ্ছে। ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে থাকছে বিশেষ অ্যাপ। কেন্দ্রে কোনও অনিয়ম বা বহিরাগত হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটলে এই অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি পর্ষদের কাছে রিপোর্ট পৌঁছে যাবে।


এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য সুখবর শুনিয়েছেন পর্ষদ সভাপতি। তিনি জানান, ২০২৬ সালে গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০,০০০ বেশি পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক দেবে। পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এবার টেস্ট পেপার বিতরণেও আনা হচ্ছে বড় বদল। আগে ডিআই অফিসের মাধ্যমে টেস্ট পেপার বিলি করা হতো, যা সময়সাপেক্ষ ছিল। এবার ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রেজিস্ট্রেশন ক্যাম্প চলাকালীন সরাসরি স্কুলগুলিতে টেস্ট পেপার পৌঁছে দেওয়া হবে। এর ফলে ছাত্রছাত্রীরা অনেক আগেই প্রস্তুতির সুযোগ পাবে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নির্বিঘ্ন এবং ছাত্র-বান্ধব হয়, তার জন্য প্রশাসন ও পর্ষদ যৌথভাবে কাজ করছে বলে আশ্বস্ত করেন ড. গাঙ্গুলি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *