বিহারে সরকার গঠনের আলোচনায় নতুন গতি, NDA শিবিরে টানা বৈঠক

নিউজ ফ্রন্ট, ১৬ নভেম্বর:
বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর রাজ্যে ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে। জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) এখন নতুন সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক বৈঠকে ব্যস্ত। পাটনা থেকে দিল্লি দুই জায়গাতেই চলছে রাজনৈতিক তৎপরতা।

নির্বাচনে জয়ী হয়ে এনডিএ শিবিরে উৎসাহের মাঝেই জনগণ শক্তি পার্টি (রাম বিলাস)–এর প্রধান তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান, হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চার নেতা সন্তোষ সুমন সহ জোটের অন্যান্য দলের নেতারা রবিবার পাটনায় জেডিইউ সভাপতি ও মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমারের সঙ্গে দেখা করেন। সরকার গঠনের প্রাথমিক রূপরেখা নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

একই দিনে জেডিইউ–এর কার্যনির্বাহী সভাপতি সঞ্জয় ঝা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিংহ নয়া দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। নতুন সরকার গঠনের সম্ভাব্য কাঠামো এবং মন্ত্রিত্ব বণ্টন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে খবর।

জেডিইউ তাদের ৮৫ জন নবনির্বাচিত বিধায়ককে পাটনায় ডেকে পাঠিয়েছে। আগামীকাল দলের বিধানমণ্ডলীয় দলের বৈঠক হবে, এবং সেই সভাতেই নিতীশ কুমারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জেডিইউ–এর বিধানমণ্ডলীয় দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হবে বলে জানা গেছে।
এনডিএ–র পাঁচটি শরিক দলও পৃথকভাবে নিজেদের বিধায়ক দলের নেতাদের নির্বাচন করবে। পরে একটি যৌথ বৈঠকে জোটের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করা হবে। আগামীকাল বিহার মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে বিদায়ী মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করা হতে পারে।

অন্যদিকে, নির্বাচনে ভরাডুবির পর বিরোধী রাষ্ট্রীয় জনতা দলে (RJD) অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আরজেডি প্রধান এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবের কন্যা ও দলের নেত্রী রোহিণী আচার্য দল ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পরিবারের সাথেও সব সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষণা করেছেন। জানা গেছে, আরজেডির শোচনীয় পরাজয়ের পর দলের অভ্যন্তরে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। রোহিণী আচার্য তার ভাই তেজস্বী যাদব এবং তার ঘনিষ্ঠদের কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে অপমান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এমনকি তাকে মারধর করার জন্য জুতোও তোলা হয়েছিল বলে তিনি সমাজমাধ্যমে দাবি করেছেন।

এই ঘটনার ফলে বিহারের রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এনডিএ যেখানে সরকার গঠনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, সেখানে বিরোধী শিবিরে পরিবারিক ভাঙন ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *