নতুন শিবপুরের একমাত্র সংযোগকারী রাস্তা তলিয়ে গেল, বিধায়ক ও সেচ দফতরের আধিকারিকরা পরিদর্শনে
প্রতিবছর বর্ষার সঙ্গে সঙ্গে গঙ্গা ভাঙন যেন মুর্শিদাবাদের মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। এবারও ব্যতিক্রম নয়। সামশেরগঞ্জের নতুন শিবপুরে ফের ভয়াবহভাবে শুরু হয়েছে গঙ্গার ভাঙন। গঙ্গার গর্ভে তলিয়ে গেছে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তাও। ধসে পড়েছে প্রায় ৩০০ মিটার এলাকা। জনবসতির দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে নদী, আর তার জেরে তীব্র আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা।
মুর্শিদাবাদ, ২৭ জুলাই ২০২৫: মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে নতুন করে গঙ্গা ভাঙন শুরু হওয়ায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গঙ্গা গর্ভে তলিয়ে গেছে সামশেরগঞ্জের নতুন শিবপুরের সঙ্গে যোগাযোগকারী একমাত্র রাস্তাটিও, যার ফলে স্থানীয়দের যাতায়াত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নদী পাড় বরাবর প্রায় ৩০০ মিটার লম্বা এলাকা ধসে পড়েছে এবং ক্রমশই জনবসতির দিকে ঢুকে পড়ছে আগ্রাসী নদী। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই নতুন শিবপুর এলাকায় গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। আজ সকালে হঠাৎ করেই নদীর পাড় বরাবর বিশাল অংশ ধসে পড়ে। এতে নতুন শিবপুরের সঙ্গে মূল এলাকার সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি সম্পূর্ণভাবে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এর ফলে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ কার্যত আটকা পড়েছেন। জরুরি পরিষেবা পৌঁছাতেও সমস্যা হচ্ছে। গ্রামবাসীরা তাঁদের বাড়িঘর হারানোর আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। অনেকেই তাঁদের শেষ সম্বলটুকু বাঁচানোর জন্য জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।

ভাঙনের খবর পেয়ে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান সামশেরগঞ্জের বিধায়ক আমিরুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সেচ দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। তাঁরা ভাঙন কবলিত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। বিধায়ক গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সামশেরগঞ্জ এলাকায় গঙ্গা ভাঙন একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। প্রতি বছর বর্ষার সময় এই ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে এবং বহু পরিবারকে ভিটেমাটি হারাতে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। এবারও পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, গ্রামবাসীরা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।
এই ঘটনা আবারও রাজ্যের নদী ভাঙন সমস্যা এবং এর স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরল।