অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে সুশীলা কার্কির নাম প্রস্তাব
নিউজ ফ্রন্ট, ১১ সেপ্টেম্বরঃ
প্রচণ্ড বিক্ষোভ ও সহিংসতায় টালমাটাল নেপাল ধীরে ধীরে ফের শান্তির পথে হাঁটছে। গত কয়েকদিন ধরে রাজধানী কাঠমান্ডুসহ দেশজুড়ে ভয়াবহ দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ, সরকারি ভবনে হামলার ঘটনার পর বুধবার পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত বিক্ষোভে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩০ জন এবং আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ।
প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের পর বুধবার নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হলেন দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। জানা গেছে, ‘জেন-জি’ প্রজন্মের প্রতিনিধি দল তাঁর নাম প্রস্তাব করে। যদিও, সন্ধ্যার পর কিছু অংশের মধ্যে তাঁর মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ ছড়ায়।
প্রাথমিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ শুরু হলেও, জেন-জি (Gen-Z) তরুণদের এই আন্দোলনের মূল কারণ ছিল ব্যাপক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং একই পুরনো রাজনীতিবিদদের বারবার ক্ষমতার কেন্দ্রে আসা নিয়ে গভীর হতাশা। বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবন, হিলটন হোটেল এবং নেপালের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র সিংহা দরবারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে। দিল্লি বাজার জেলেও আগুন লাগানো হয়, যার ফলে দেশজুড়ে প্রায় ১৩,৫০০ বন্দি পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা নামানো হয়েছে। কড়া কারফিউ জারি করা হয়েছে কাঠমান্ডুতে। সেনাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা অস্ত্র ও লুট করা গোলাবারুদ ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পালিয়ে যাওয়া কয়েকজন বন্দিকে ইতিমধ্যেই সেনারা ধরতে সক্ষম হয়েছে।
নেপালের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, এই বিক্ষোভ-সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়েছে। আহতদের মধ্যে ৭১৩ জন চিকিৎসার পর ছাড়া পেয়েছেন, ৫৫ জনকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২৫৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি। মোট ২৮টি হাসপাতাল আহতদের চিকিৎসায় নিয়োজিত এবং জরুরি পরিষেবাগুলিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। প্রধানমন্ত্রী অলির পদত্যাগের পর এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজধানীর রাস্তায় নেমে পড়েছেন তরুণরা—ভাঙা আসবাব, কাঁচের টুকরো ও ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। সরকারি অফিস ও রাস্তার পাশে জমে থাকা আবর্জনা সরাচ্ছেন তাঁরা।
সবচেয়ে বড় আশার খবর—বুধবার থেকে ফের খুলে দেওয়া হয়েছে কাঠমান্ডুর মূল বিমানবন্দর। যদিও বহু যাত্রী এখনও সেখানে আটকে রয়েছেন।