অধীরের বিরুদ্ধে ২৫ বছরের দুর্নীতির খতিয়ান চাইলেন নাড়ুগোপাল

নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর: বহরমপুরের রাজনৈতিক ময়দান এখন রণক্ষেত্র। একদিকে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী, অন্যদিকে পুরপ্রধান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। বুধবার অধীর চৌধুরী অভিযোগ করেছিলেন যে, নাড়ুগোপাল তাঁর শাশুড়ির নামে ১০ কোটি টাকার দরপত্র (টেন্ডার) নিয়েছেন এবং ভাল রাস্তা-নিকাশিনালা ভেঙে বড় অঙ্কের ভুয়ো বিল তুলেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সেই অভিযোগের পাহাড় উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা আক্রমণ শানালেন নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়।

অধীর চৌধুরীর শাশুড়ি-কটাক্ষের জবাবে এদিন নাড়ুগোপাল বাবু অত্যন্ত ব্যক্তিগত স্তরে আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, ২০১১ সালে অধীর চৌধুরীর স্ত্রী অর্পিতা চৌধুরীর বর্তমানেই তিনি অন্য এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন এবং তাঁকে সরকারি জায়গায় সুযোগ করে দিয়েছিলেন। নাড়ুগোপালের হুঁশিয়ারি, তিনি (অধীর) যদি বলেন শাশুড়ি কি জয় হো, তবে আমি বলব পরকীয়া কি জয় হো!”

তিনি সাফ জানান, যাঁর নিজের চরিত্রে কলঙ্ক আছে, তাঁর কাছ থেকে নীতি-নৈতিকতা শিখবেন না।

নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, গত ২৫ বছর ধরে পুরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে অধীর চৌধুরী প্রতি বছর ৩ থেকে ৪ কোটি টাকার টেন্ডার নিতেন এবং সেই টাকা দিয়ে ব্যক্তিগত আমোদ-প্রমোদ চালাতেন। তাঁর আরও চাঞ্চল্যকর দাবি লখনউ ভ্রমণে গিয়েও বহরমপুর পুরসভার তহবিল থেকে উপহার আনিয়েছেন অধীর। অধীরের স্ত্রীর সংস্থা মাটির তলা থেকে অবৈধভাবে জল তুলে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ। নাড়ুগোপাল বাবু হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তিনি এই ব্যবসা বন্ধ করবেন। ২০১৮-১৯ সালে ভয় দেখিয়ে অধীর তাঁর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন পুরপ্রধান।

নাড়ুগোপাল বাবু জানান, তাঁর কাছে অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে আরও অনেক ‘ভয়ঙ্কর’ তথ্য ও নথি রয়েছে। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, ক্ষমতা থাকলে আমার বিরুদ্ধে মামলা করুন। নথি প্রকাশ্যে আনলে ওঁর রাস্তাঘাটে চলা মুশকিল হয়ে যাবে।” ১০ কোটির টেন্ডার প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, যে ফার্মের কথা বলা হচ্ছে সেটি ২০২৫ সালেই বিক্রি হয়ে গিয়েছে, তাই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে তোলা এই পাহাড়প্রমাণ অভিযোগকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করেছে জেলা কংগ্রেস। মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী বলেন, অধীর চৌধুরীকে নিয়ে নাড়ুগোপাল আজগুবি গল্প বলছেন। জেলা তথা গোটা দেশের মানুষ অধীর চৌধুরীকে চেনেন। ওঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তিতে এভাবে কালি ছেটানো যাবে না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *