নিজস্ব প্রতিনিধি, সামসেরগঞ্জ: মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জ থানার চাঁদনীদোহা গ্রামে গভীর রাতে এক চাঞ্চল্যকর ও রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। নিজের ঘর থেকে বাথরুমে যাওয়ার নাম করে বেরিয়ে নিখোঁজ হলেন সারিনা খাতুন নামে এক মহিলা। বাড়ির আঙিনায় ছড়িয়ে থাকা ছোপ ছোপ রক্তের দাগ এই রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে। ওই মহিলা পেশায় একজন ‘কবিরাজ’ হওয়ায় ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে দানা বাঁধছে সন্দেহ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ সারিনা খাতুন রবিবার রাতে তাঁর মায়ের সঙ্গেই ঘুমিয়েছিলেন। রাত আনুমানিক ২টো নাগাদ তিনি বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বের হন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পেরিয়ে গেলেও তিনি ফিরে না আসায় তাঁর মা চিন্তিত হয়ে পড়েন। খোঁজাখুঁজি শুরু করতেই বাড়ির বাথরুম সংলগ্ন এলাকায় চাপ চাপ রক্তের দাগ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু সারিনার কোনও হদিশ মেলেনি।
নিখোঁজ মহিলার মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার মেয়ে আমার পাশেই শুয়ে ছিল। ও বাথরুমে গেল, তারপর আর ফিরে এল না। বাইরে বেরিয়ে দেখি শুধু রক্ত পড়ে আছে। আমার বিশ্বাস, কেউ ওকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়েছে। প্রশাসনের কাছে হাত জোড় করে বিনতি করছি, আমার মেয়েকে ফিরিয়ে দিন।”
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, সারিনা খাতুন এলাকায় ‘কবিরাজ’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং ঝাড়ফুঁকের কাজ করতেন। এই পেশার কারণে কারও সঙ্গে কোনও শত্রুতা তৈরি হয়েছিল কি না, কিংবা কোনও কুসংস্কারজনিত কারণে এই হামলা কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই সামসেরগঞ্জ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী চাঁদনীদোহা গ্রামে পৌঁছায়। এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে এবং ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ধস্তাধস্তির জেরেই বাড়ির উঠোনে রক্তপাত হয়েছে। তবে এটি নিছক অপহরণ নাকি অন্য কোনও অপরাধমূলক ঘটনা, তা নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি প্রশাসন।