মুর্শিদাবাদে একাধিক অস্ত্র উদ্ধার অভিযান — রাণীনগর, হরিহরপাড়া ও বেলডাঙ্গায় চাঞ্চল্যকর গ্রেফতার

নিউজ ফ্রন্ট, মুর্শিদাবাদঃ মুর্শিদাবাদ জেলায় অবৈধ অস্ত্র পাচার ও মজুত রোধে পুলিশ প্রশাসন একাধিক সফল অভিযান চালিয়েছে। গত কয়েক দিনে রাণীনগর, হরিহরপাড়া ও বেলডাঙ্গা থানার পৃথক অভিযানে ধৃত হয়েছে একাধিক দুষ্কৃতী, উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি। এই ধারাবাহিক পদক্ষেপে জেলায় বেআইনি অস্ত্র ব্যবসায় জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধাক্কা দিল পুলিশ।

১২ আগস্ট রাত প্রায় ১১টা ১৫ মিনিটে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাণীনগর থানার পুলিশ মোহনগঞ্জ বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় ধরা পড়ে বাপ্পা মণ্ডল ওরফে বুলেট (২৭), পিতা সুরেশ মণ্ডল, বাসিন্দা মোহনগঞ্জ গুরিপাড়া। তল্লাশিতে তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় একটি দেশি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি। ধৃতকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানিয়ে আদালতে পেশ করা হয়েছে।

রানিনগরে ধৃত ১

৯ আগস্ট রাতে হরিহরপাড়া থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে মঞ্জুর আলি (৩৪), বাসিন্দা কুমরিপুর। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় একটি .৩০৩ ইমপ্রোভাইজড রাইফেল ও দুই রাউন্ড গুলি। পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন জেরায় আরও একটি পাইপগান ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়। অস্ত্র সরবরাহকারীর সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

১২ আগস্ট রাত প্রায় ১২টা ২৫ মিনিটে বেলডাঙ্গা থানার পুলিশ কালিতলা–ফতেনগর রোড থেকে উদ্ধার করে ৬টি এক-শাটার পাইপগান, ২টি মাস্কেট এবং ১৪ রাউন্ড গুলি। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার হয় নওসাদ মণ্ডল (৫০), বাসিন্দা গরিবপুর। সে একজন অভ্যাসগত অস্ত্র সরবরাহকারী, মাত্র তিন মাস আগে এনডিপিএস মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছিল। পুলিশ তাকে ৭ দিনের হেফাজতের আবেদন জানিয়ে আদালতে পেশ করেছে।

বেলডাঙ্গায় উদ্ধার অস্ত্র

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ১২ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে মোট ১৯৩টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬৩৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে।এই পরিসংখ্যান জেলার মধ্যে অবৈধ অস্ত্রের ব্যাপক উপস্থিতির ইঙ্গিত দিলেও, পুলিশের লাগাতার অভিযানের ফলস্বরূপ এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।

মুর্শিদাবাদে পুলিশ প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, অবৈধ অস্ত্র চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এই গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম জেলার আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে প্রশাসন। একইসঙ্গে, তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রগুলির মূল নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *