মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ: স্পিকারের সিদ্ধান্ত বাতিল করল কলকাতা হাইকোর্ট, স্বস্তি শুভেন্দুর

কলকাতা, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫:

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-র টিকিটে জেতা মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহ শব্বার রাশিদির ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। এর ফলে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা আসনের বিধায়ক পদে আর থাকছেন না মুকুল রায়।

মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের দাবির পাশাপাশি, এই মামলায় আদালতের মূল নজর ছিল বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের দিকে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে জেতার পর মুকুল রায় তৃণমূলে যোগ দিলেও, সেই সময় অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় রায় দিয়েছিলেন যে, মুকুল রায় বিজেপি-তেই আছেন এবং দলত্যাগ করেননি। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এদিন সরাসরি অধ্যক্ষের সেই সিদ্ধান্তকে খারিজ করে দিয়েছে।

মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে ২০২১ সালে কলকাতা হাইকোর্টে প্রথম মামলাটি দায়ের করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিধায়ক অম্বিকা রায়।

আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দলত্যাগ করলেও বিধানসভার অধ্যক্ষ যে ভাবে মুকুল রায়কে বিজেপির বিধায়ক বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা সম্পূর্ণ অনৈতিক ছিল। গণতন্ত্রের জয় হলো।”

সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীও এই প্রসঙ্গে সরব হয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, শুধুমাত্র মুকুল রায় নন, এমন অনেকেই অনৈতিকভাবে দলত্যাগ করেছেন, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই রায় সেই সব দলত্যাগীদের ক্ষেত্রেও নজির তৈরি করবে।

তৃণমূলের মুখপাত্র আরূপ চক্রবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে নৈতিকতার পাঠ শোনানো ঠিক নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেদিন শিশির অধিকারী ও দিব্যেন্দু অধিকারী তৃণমূলের সাংসদ হয়েও বিজেপির মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, সেদিন কি সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা হয়েছিল? পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, মহারাষ্ট্র, গোয়া বা অরুণাচলে বিজেপি যখন সরকার ভাঙার উদ্যোগ নিয়েছিল, তখন কি সংবিধান লঙ্ঘনের কথা মনে রাখা হয়েছিল?

উল্লেখ্য, অধ্যক্ষের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিরোধী দলনেতা প্রথমে সুপ্রিম কোর্টে গেলেও, শীর্ষ আদালত তাঁকে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথা বলেছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই রায় তৃণমূলের কাছে বড় ধাক্কা এবং বিরোধী শিবিরকে স্বস্তি এনে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *