নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় রিপোর্ট দিল নির্বাচন কমিশন। সব জেলার থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের মোট বুথের অর্ধেকেরও বেশি এখন কমিশনের ‘আতসকাচে’র তলায়। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে রাজ্যজুড়ে বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিশন সূত্রে খবর, জেলা প্রশাসনের পাঠানো রিপোর্ট অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে মোট ৪১ হাজার ৪০০টি বুথকে ‘সংবেদনশীল’ (Sensitive) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিস্থিতি বিচার করে প্রায় ৬ হাজার ৮০০টি বুথকে ‘অতি সংবেদনশীল’ (Highly Sensitive) তকমা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, রাজ্যের মোট বুথের একটি বড় অংশেই গোলমালের আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে কমিশন।
এই বিপুল সংখ্যক সংবেদনশীল বুথে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রাথমিক পর্যায়ে ২৪০ কোম্পানি আধা সেনা বা কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আগামী রবিবার বা সোমবারের মধ্যেই এই বাহিনী রাজ্যে পৌঁছে যাবে। পৌঁছেই তারা রুট মার্চ শুরু করবে এবং অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে স্পর্শকাতর ও অতি স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে তাদের মোতায়েন করা হবে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১ মার্চ ডেপুটি ইলেকশন কমিশনারসহ কমিশনের আটজন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের রাজ্যে আসার কথা ছিল। ১ ও ২ মার্চ জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO) এবং পুলিশ সুপারদের (SP) সঙ্গে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল। তবে বিশেষ কারণে এই সফরে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আপাতত ওই বৈঠক স্থগিত রাখা হয়েছে এবং সফরের নতুন দিনক্ষণ পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে কমিশন সূত্রে খবর।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত কয়েক বছরে বাংলায় বিভিন্ন নির্বাচনে হিংসার ঘটনার কথা মাথায় রেখেই এবার আগেভাগে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামিয়ে এলাকায় আত্মবিশ্বাস ফেরাতে চাইছে কমিশন। ৪১ হাজার বুথ সংবেদনশীল হওয়া মানেই চ্যালেঞ্জটা অনেক বড়।