ক্যালিফোর্নিয়ার এক তরুণী মেটা প্ল্যাটফর্মসের ইনস্টাগ্রাম ও গুগলের ইউটিউবের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সংস্থাগুলি অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নয়াদিল্লি, ২৭ ফেব্রুয়ারি:
সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তির অভিযোগে মেটা প্ল্যাটফর্মসের ইনস্টাগ্রাম এবং গুগলের ইউটিউবের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ক্যালিফোর্নিয়ার এক তরুণী বৃহস্পতিবার আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এই মামলাকে সোশ্যাল মিডিয়ার শিশু ও কিশোরদের ওপর প্রভাব সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মামলায় তরুণীর দাবি, অল্প বয়স থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আসক্তি তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তিনি জানান, ছয় বছর বয়স থেকে ইউটিউব এবং নয় বছর বয়স থেকে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের ফলে তিনি উদ্বেগ, হতাশা ও নিজের শারীরিক চেহারা নিয়ে অনিরাপত্তায় ভুগতে শুরু করেন। মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকলে তাঁর মধ্যে অস্থিরতা ও মানসিক চাপ বেড়ে যেত বলেও তিনি আদালতে জানান।
বাদিনীর অভিযোগ, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের কারণে তাঁর পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে, ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়, সামাজিক মেলামেশা কমে যায় এবং পারিবারিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়। তিনি দাবি করেন, প্ল্যাটফর্মগুলির অ্যালগরিদম এমনভাবে তৈরি, যা ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে যুক্ত রাখে এবং তা অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই মামলা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যেই ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অন্যান্য দেশও অনুরূপ বিধিনিষেধের কথা বিবেচনা করছে।
তবে গুগল ও মেটা উভয় সংস্থাই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, এই মামলায় উপস্থাপিত প্রমাণ তরুণীর দাবিকে সমর্থন করে না। সংস্থাগুলি দাবি করেছে, তারা ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতা রক্ষায় বিভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার রায় ভবিষ্যতে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলির দায়বদ্ধতা এবং শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে এখন নজর রয়েছে প্রযুক্তি জগত ও নীতিনির্ধারকদের।