উত্তরপ্রদেশের বাগপত জেলার গাঙ্গনৌলি গ্রামে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মসজিদের ভিতরে ইমাম ইব্রাহিমের স্ত্রী ও দুই কন্যাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুই নাবালক ছাত্র। ইমাম সে সময় ছিলেন দেওবন্দে। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের আটক করেছে ও তদন্ত শুরু হয়েছে।
নিউজ ফ্রন্ট, লখনউ, ১২ অক্টোবর:
উত্তরপ্রদেশের বাগপত জেলার গাঙ্গনৌলি গ্রামে শনিবার গভীর রাতে এক বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মসজিদের ভেতরে বসবাসরত স্থানীয় ইমাম ইব্রাহিমের স্ত্রী ইসরানা (৩৫) ও তাঁর দুই কন্যা সুমাইয়া (২) এবং সোফিয়া (৫)-এর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলটি মসজিদের আবাসিক অংশের একটি ছোট ঘর, যেখানে পরিবারটি থাকত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে যখন ইমাম ইব্রাহিম ধর্মীয় কাজে দেওবন্দে গিয়েছিলেন। এই সুযোগে মাদ্রাসায় পড়া দুই নাবালক ছাত্র মসজিদে প্রবেশ করে প্রথমে ইসরানার উপর হামলা চালায়। অভিযোগ, ইসরানা নাবালকদের কিছুদিন আগে শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য বকাঝকা করেছিলেন — সেই রাগ থেকেই তারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত দুই নাবালক প্রথমে ইসরানার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। চিৎকার শুনে ঘরে থাকা দুই শিশু সুমাইয়া ও সোফিয়া কাঁদতে শুরু করলে, তাদেরও নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর গ্রামবাসীরা মসজিদ চত্বর থেকে তিনটি দেহ উদ্ধার করে পুলিশের খবর দেয়। রাতেই জেলা পুলিশ সুপার সুরজ কুমার রায় ও অন্যান্য আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় মানুষজন ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং দেহ উদ্ধারে পুলিশকে বাধা দেন। তাঁরা পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে এলাকায় বিক্ষোভ ও হাঙ্গামা শুরু করেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
মসজিদের ঘর থেকে রক্তমাখা হাতুড়ি, ছুরি এবং দুটি সিসিটিভি রেকর্ডার উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত দুই নাবালক ছাত্রকে আটক করা হয়েছে এবং প্রযুক্তিগত ও আইনি দিক থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ডিআইজি (মেরঠ) কলানিধি নৈথানী জানান, “অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রাথমিকভাবে এটি শৃঙ্খলা ভঙ্গজনিত বিরোধের জেরে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। তবে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”