নিজস্ব সংবাদদাতা, রানিনগর: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের রানিনগর থানার বামনাবাদ ব্রিজপাড়া এলাকায় মঙ্গলবার রাতে এক শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল জনপদ। এই ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক নাবালক গুরুতর জখম হয়েছে। ঘটনার ধরন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের বয়ানে তৈরি হয়েছে তীব্র ধন্দ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ১১টা নাগাদ সীমান্তের মাঠের দিক থেকে একটি বিকট শব্দ শুনতে পান গ্রামবাসীরা। শব্দের তীব্রতা এতটাই ছিল যে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। তড়িঘড়ি স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন, এক নাবালক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, সীমান্ত এলাকায় কিছু নাবালক মিলে প্রথমবারের মতো ‘বোমা’ বাঁধার চেষ্টা করছিল। সেই আনাড়ি হাতের কারসাজিতেই অসাবধানতাবশত বিস্ফোরণটি ঘটে।
রানিনগর থানার ওসির মতে, এটি কোনো শক্তিশালী বোমা নয়। তাঁর দাবি, “কয়েকজন নাবালক নারকেলের মালার মধ্যে পটকা বা বাজির মশলা ঢুকিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিল। তখনই দুর্ঘটনাটি ঘটে।”
ঘটনার পর তদন্তে নেমে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাইনুল শেখ নামে এক যুবককে আটক করলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আটক যুবকের বাবা সাইদুল শেখ জানান, “এরা মাঝেমধ্যে আনন্দ করার জন্য এরকম ছোটখাটো বাজি ফাটায়। আমার ছেলে বোমা বাঁধতে জানেই না।”
আহত নাবালকের এক আত্মীয় জানান, “মাইনুলই ওই ছেলেটিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে রাত প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ হঠাৎ একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কিছুক্ষণ পর মাইনুল আর এক যুবক মিলে আহত নাবালককে গাড়িতে করে বহরমপুর হাসপাতালে নিয়ে যায়।”
আপাতত পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে রানিনগর থানার পুলিশ। সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় এই ধরনের বিস্ফোরণ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশ দেখছে এটি নিছকই বাজির পরীক্ষা ছিল নাকি এর পেছনে অন্য কোনো অসাধু উদ্দেশ্য কাজ করছিল।