২০ বছর ধরে সুযোগ খুঁজছিল আততায়ী
জম্মু, ১২ মার্চ: জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহর ওপর ভয়াবহ হামলার চেষ্টা। বুধবার রাতে জম্মুর উপকণ্ঠে গ্রেটার কৈলাস এলাকার ‘রয়্যাল পার্ক’-এ একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে পিস্তল থেকে গুলি চালানো হয়। সেই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরী এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা নাসির আসলাম ওয়ানি। তবে নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠায় বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পান তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফারুক আবদুল্লাহ যখন অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে বেরোচ্ছিলেন, তখন পিছন থেকে এসে আততায়ী খুব কাছ থেকে গুলি চালায়। নিরাপত্তারক্ষীরা তৎক্ষণাৎ অভিযুক্তকে জাপ্টে ধরেন এবং নিরস্ত্র করেন। ধৃতের নাম কমল সিং জামওয়াল (৬৩)। সে জম্মুর পুরানি মান্ডির বাসিন্দা। তার কাছ থেকে একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
জেরায় ধৃত কমল সিং পুলিশকে জানিয়েছে, সে গত ২০ বছর ধরে ফারুক আবদুল্লাহকে নিশানা করার সুযোগ খুঁজছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি পেশায় ব্যবসায়ী এবং নিজের দোকানের ভাড়া থেকে জীবনযাপন করে। কেন সে দীর্ঘ দুই দশক ধরে এই হত্যার পরিকল্পনা করছিল, তার নেপথ্যে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত আক্রোশ নাকি কোনো সংগঠনের মদত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উপত্যকা জুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ফারুক আবদুল্লাহর ছেলে তথা জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এক্স (টুইটার)-এ লেখেন, “খবরটি এখনও অস্পষ্ট, তবে এটি নিশ্চিত যে একটি লোডেড পিস্তল নিয়ে এক ব্যক্তি বাবার খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল এবং গুলি চালিয়েছিল। আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি বেঁচে গিয়েছেন।”
জম্মু-কাশ্মীর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তারিক হামিদ কাররা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, “এই ঘটনা প্রমাণ করে যে অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা নড়বড়ে। আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহি করতে হবে।” বিজেপি নেতা জাহানজৈব সিরওয়াল বলেন, “গণতান্ত্রিক সমাজে হিংসার কোনো স্থান নেই। এই ঘটনার স্বচ্ছ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে। কমল সিং জামওয়ালের অতীত রেকর্ড, তার সামাজিক যোগাযোগ এবং সাম্প্রতিক গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও সে কীভাবে ভিভিআইপি (VVIP) নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে এত কাছে পৌঁছল, তা নিয়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।