মমতা সরকার অনুপ্রবেশকারীদের জাল নথি দিয়েছে: গুরুতর অভিযোগ বিজেপির


ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। বিজেপি অভিযোগ করেছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার অনুপ্রবেশকারীদের বৈধতা দিতে জাল নথি তৈরি করছে। সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনের প্রতি।


নিউজ ফ্রন্ট, ৪ নভেম্বর, নয়াদিল্লি:
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision – SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে। বিজেপি অভিযোগ করেছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের বৈধ নাগরিক হিসেবে তুলে ধরতে জাল নথি তৈরি ও বিতরণ করছে।

দলটির তরফে দাবি করা হয়েছে, জন্ম শংসাপত্র, বাসস্থান শংসাপত্র, বন অধিকার নথি এবং বর্ণ শংসাপত্রের ক্ষেত্রে ব্যাপক জালিয়াতি হচ্ছে। বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় এই সমস্ত নথির যাচাই কঠোরভাবে করা হোক এবং ২৪ জুন, ২০২৫ সালের পরে জারি করা কোনও শংসাপত্র গ্রহণ না করা হয়।

বিজেপির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্য বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) হুমকি দিচ্ছেন। বিজেপির দাবি, এই প্রক্রিয়া বন্ধ হলে প্রকৃত নাগরিকদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে এবং অনুপ্রবেশকারীরা রাজনৈতিকভাবে লাভবান হবে।

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা সুরে জানিয়েছেন, কেন্দ্রের নির্দেশে এই SIR প্রক্রিয়া “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকাকে “বিকৃত” করার চেষ্টা করছে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে তিনি আজ কলকাতায় একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দেবেন, যেখানে “SIR বন্ধের দাবি” তোলা হবে।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একই সময়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় একটি পদযাত্রার নেতৃত্ব দেবেন। তাঁর দাবি, “SIR প্রক্রিয়াই হল অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত ও বহিষ্কারের একমাত্র কার্যকর উপায়।”

এদিকে, দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুতে শাসক দল ডিএমকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন দায়ের করেছে। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া “অসাংবিধানিক, স্বেচ্ছাচারী এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী”।

নির্বাচন কমিশন অবশ্য আগেই মাদ্রাজ হাইকোর্টকে জানিয়েছিল যে SIR প্রক্রিয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, নাগরিকদের সব ধরনের আপত্তি ও প্রমাণ বিবেচনা করেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক পশ্চিমবঙ্গ ও দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *