নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা | ৯ জানুয়ারি, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থা বনাম রাজ্য সরকারের সংঘাত এবার এক চরম পর্যায়ে পৌঁছাল। অতীতে তদন্তে বাধা বা হেনস্থার অভিযোগ উঠলেও, এবার সরাসরি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) আধিকারিকদের বিরুদ্ধে নথিপত্র চুরির অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়ের করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনায় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় রাজনীতির অলিন্দে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই মামলার অভিযোগকারী স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগে জানানো হয়েছে যে, তল্লাশি অভিযানের নামে অজ্ঞাতপরিচয় ইডি আধিকারিক এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী (CRPF) জওয়ানরা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র চুরি করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেছেন অজ্ঞাতপরিচয় ইডি আধিকারিক এবং সিআরপিএফ জওয়ানরা নথিপত্র হাতিয়ে নিয়েছেন। যথাযথ অনুমতি বা আইনি প্রক্রিয়া না মেনেই নথিপত্র সরানোর মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
ইডির বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় মামলা। এর আগে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে শেক্সপিয়ার সরণি থানায় একটি স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলার ধারাগুলো ছিল অত্যন্ত কঠোর সরকারি কর্মচারীদের কাজে বাধা দেওয়া। হুমকি এবং ভয় দেখানো। বেআইনিভাবে কারও বাড়িতে বা দপ্তরে প্রবেশ করা।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগতভাবে অভিযোগকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া এই ঘটনাকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা যেখানে কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তুলে সরাসরি এফআইআর করছেন।
এই ঘটনার পর থেকেই কড়া প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে দু’পক্ষ থেকেই। তৃণমূল শিবিরের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি তদন্তের নামে আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে এবং নথিপত্র ম্যানিপুলেট বা চুরি করে রাজ্য সরকারকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তদন্তের হাত থেকে বাঁচতে এবং ইডির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে ব্যবহার করে এই ধরণের ‘কাল্পনিক’ অভিযোগ করছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে সূত্রের খবর।
খোদ মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগকারী হওয়ায় এই মামলার তদন্তভার অত্যন্ত উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের হাতে দেওয়া হতে পারে। ইডি আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না বা তাঁদের গতিবিধির ওপর কোনো আইনি বিধিনিষেধ আসবে কি না, তা নিয়ে আইনি মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।