নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য প্রশাসনে বড়সড় রদবদলের সিদ্ধান্ত নিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সোমবার সন্ধ্যায় প্রশাসনিক সংস্কার ও কর্মিবিনিয়োগ দফতরের তরফে একসঙ্গে ৬৪ জন আইএএস আধিকারিকের বদলির বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বদল করা হয়েছে ১০ জেলার জেলা শাসক, ২২ জন অতিরিক্ত জেলা শাসক, ১৫ জন মহকুমাশাসক এবং ১০ জন অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি (OSD)-কে।
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, এই বদলি আসলে “নির্ধারিত” ছিল, কিন্তু দুর্গাপূজা, কালীপুজো এবং দীপাবলির মতো উৎসবের কারণে তা কার্যকর করা হয়নি। উৎসবের পরেই, যখন রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে, তার আগেই এই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, একবার SIR শুরু হয়ে গেলে, তখন নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া কোনও বড় প্রশাসনিক বদলি সম্ভব নয়। তাই আগেভাগেই রাজ্য সরকার এই পদক্ষেপ করেছে।
কে কোথায় বদলি হলেন:
- কলকাতা পুরসভার কমিশনার ধবল জৈন → বীরভূমের জেলা শাসক
- দক্ষিণ ২৪ পরগনার DM সুমিত গুপ্তা → কলকাতা পুরসভার কমিশনার
- কোচবিহারের DM অরবিন্দ কুমার মীনা → দক্ষিণ ২৪ পরগনার DM
- মুর্শিদাবাদের DM রাজর্ষি মিত্র → HIDCO-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর
- মালদহের DM নীতিন সিংঘানিয়া → মুর্শিদাবাদের DM
- দার্জিলিং-এর DM প্রীতি গয়াল → মালদহের DM
- হিডকোর MD শশাঙ্ক শেঠি → উত্তর ২৪ পরগনার DM
- পূর্ব মেদিনীপুরের DM পূর্ণেন্দু মাজি → পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের বিশেষ সচিব
- বীরভূমের DM বিধানচন্দ্র রায় → খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের বিশেষ সচিব
- পুরুলিয়ার DM রজত নন্দ → পর্যটন দফতরের ডিরেক্টর
- ইউনিস ঋষিন ইসমাইল (স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষ সচিব) → পূর্ব মেদিনীপুরের নতুন DM
- ADM উত্তর ২৪ পরগনা মনীশ মিশ্র → দার্জিলিংয়ের DM
- ADM বসিরহাট আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর → ঝাড়গ্রামের DM
এই ছাড়াও আরও ২২ জন অতিরিক্ত জেলা শাসক ও ১৫ জন মহকুমাশাসকের বদলি করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, তিন বছর বা তার বেশি সময় ধরে একই জেলায় থাকা আধিকারিকদের নিয়ম মেনেই বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এই রদবদল কার্যত প্রশাসনিক প্রস্তুতির অংশ, যাতে আসন্ন নির্বাচনের আগে কোনও পক্ষপাতিত্ব বা কমিশনের আপত্তির সুযোগ না থাকে।
রাজ্যে এখনও কালীপুজো, ভাইফোঁটা এবং ছটপুজোর জন্য ছুটির পর্ব চলছে। এমন ছুটির আবহেই নবান্ন কেন এত বড় রদবদল ঘটালো, তা নিয়ে প্রশাসনে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রশাসনের একাংশের ধারণা, সোমবার বিকেলে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে বৈঠক ডাকায়, এর ঠিক আগেভাগে বদলিগুলি কার্যকর করা হল। এতে করে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনার সুযোগ কমিয়ে দেওয়া হল। এই বিপুল সংখ্যক IAS আধিকারিকের একযোগে বদলি পশ্চিমবঙ্গে নজিরবিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে।
আমলাদের এই রদবদলের পর, প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এরপরেই একইভাবে পুলিশ সুপারসহ আইপিএস (IPS) আধিকারিকদেরও বদলি করা হতে পারে।