জলাবদ্ধতা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে জীবন

২৪শে সেপ্টেম্বর, কলকাতা: টানা বৃষ্টির কারণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে কলকাতার জীবনযাত্রা। শহরের বহু এলাকায় জল নামতে শুরু করেছে, তবে পশ্চিম কলকাতার বেহালা ও পূর্ব কলকাতার একাধিক পাড়া এখনও জলের নিচে ডুবে আছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অব্যাহত।

অন্যদিকে, জলবদ্ধতা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এখনও পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে—এর মধ্যে ১০ জন কলকাতার বাসিন্দা এবং ২ জন আশেপাশের জেলার। এই ঘটনাগুলি শহরে নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত ত্রুটির গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।

রেল ও বাস পরিষেবা ধীরে ধীরে সচল হলেও বহু এলাকায় এখনও যাতায়াত বিঘ্নিত হচ্ছে। কাজকর্মে স্বাভাবিক ছন্দ ফেরাতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

ইতিমধ্যে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে নতুন করে একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বৃহস্পতিবার থেকে ফের এক দফা ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এতে দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

এদিকে পরিস্থিতি সামলানোর বদলে রাজনৈতিক দায় এড়াতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দোষারোপের রাজনীতিতে ব্যস্ত দেখা গেছে। তিনি জলাবদ্ধতার জন্য সরাসরি দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC)-কে দায়ী করেন। কিন্তু DVC স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের জল ছাড়ার সঙ্গে কলকাতার বন্যা বা জলাবদ্ধতার কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফারাক্কা ব্যারেজকেও অভিযুক্ত করেছেন, যা বিশেষজ্ঞদের মতে অযৌক্তিক।

এছাড়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী সঞ্জীব গোয়েঙ্কার মালিকানাধীন কলকাতা বিদ্যুৎ সরবরাহ কর্পোরেশন (CESC)-কেও দায়ী করেছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে—সরকারি অব্যবস্থাপনাকে আড়াল করতে কি ইচ্ছাকৃতভাবেই অন্য সংস্থাগুলিকে টার্গেট করা হচ্ছে?

অভিযোগ উঠেছে, এই সংকটময় পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী সমস্যার মূল কারণ সমাধান করার পরিবর্তে দায়িত্ব এড়িয়ে গা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও চরমে পৌঁছেছে।

একদিকে যখন শহর স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছে, তখন বঙ্গোপসাগরে একটি নতুন নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে, যা বৃহস্পতিবার থেকে আবারও ভারী বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই খবর শহরবাসীর কপালে নতুন করে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, কারণ এই পরিস্থিতিতে সামান্য বৃষ্টিও পরিস্থিতিকে আবার জটিল করে তুলতে পারে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *