নিউজ ফ্রন্ট, শ্রীনগর, ১১ অক্টোবর:
জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার কিশতওয়ার রেঞ্জের কোকেরনাগ অভিযানে শহিদ দুই বীর সেনানী — ল্যান্স হাবিলদার পলাশ ঘোষ এবং ল্যান্স নায়েক সুজয় ঘোষের প্রতি আজ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলেন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিংহ।
শ্রীনগরে আয়োজিত এক সামরিক অনুষ্ঠানে লেফটেন্যান্ট গভর্নর শহিদ দুই সেনা সদস্যের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে বলেন,
“আমি আমাদের সেনার দুই বীর সন্তান ল্যান্স হাবিলদার পলাশ ঘোষ এবং ল্যান্স নায়েক সুজয় ঘোষের সর্বোচ্চ আত্মবলিদানকে স্যালুট জানাই। তাঁদের বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও দেশসেবার উদাহরণ চিরকাল জাতিকে অনুপ্রাণিত করবে। শহিদদের পরিবারগুলির পাশে আমরা সর্বদা আছি।”
উল্লেখ্য, ৬-৭ অক্টোবর রাতে কোকেরনাগের আহলান গাডোল বনাঞ্চলে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে অংশগ্রহণ করার সময় তীব্র তুষারঝড় ও ‘হোয়াইটআউট’ পরিস্থিতির মুখে পড়ে নিখোঁজ হন সেনার এই দুই প্যারা কমান্ডো।
চারদিনব্যাপী তল্লাশি অভিযানের পর বৃহস্পতিবার উদ্ধার হয় ল্যান্স নায়েক সুজয় ঘোষের দেহ এবং শুক্রবার উদ্ধার হয় ল্যান্স হাবিলদার পলাশ ঘোষের দেহ।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মারাত্মক ঠান্ডা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাঁরা হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। সেনা সূত্রে খবর, এই মৃত্যুতে জঙ্গি আক্রমণের কোনও প্রমাণ মেলেনি।
চিনার কর্পস এক্স (X) প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছে,
“কিশতওয়ার রেঞ্জে চরম প্রতিকূল অবস্থায় লড়াই করে প্রাণ উৎসর্গ করা আমাদের দুই সাহসী যোদ্ধা ল্যান্স হাবিলদার পলাশ ঘোষ ও ল্যান্স নায়েক সুজয় ঘোষের আত্মত্যাগ দেশবাসীর হৃদয়ে চিরকাল অমলিন থাকবে।”
পলাশ ঘোষ মুর্শিদাবাদ জেলার হরিহরপাড়া থানার রুকুনপুর বলরামপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। শনিবার তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছাবে বলে জানা গিয়েছে। শহিদের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। সর্বস্তরের মানুষ শহিদের পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন।
দেশের মাটিতে শহিদ দুই বীর সন্তানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ গোটা দেশ এক কণ্ঠে বলছে—
“জয় হিন্দ! তাঁদের আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয়।”