নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা – ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডে (Eastern Coalfields Limited – ECL) কয়লা দুর্নীতির তদন্ত চেয়ে কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কীর্তি আজাদ। চিঠিতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা, যেমন সিবিআই (CBI) এবং ইডি (ED)-কে দিয়ে তদন্ত করানোর দাবি জানানোর পর থেকেই অস্বস্তিতে পড়েছিল রাজ্যের শাসক দল। দল। তবে বিতর্কের মুখে পড়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি সেই চিঠি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বিতর্ক আরও বেড়েছে।
কেন এই বিতর্ক?
বর্ধমান-দুর্গাপুরের সাংসদ কীর্তি আজাদ কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডিকে সম্প্রতি একটি চিঠি পাঠিয়ে ECL-এর কার্যকলাপে দুর্নীতির অভিযোগ আনেন। তিনি দাবি করেন, ECL-এর টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে কয়লা উত্তোলন, পরিবহন এবং বিক্রির কাজ কয়েকটি নির্দিষ্ট সংস্থার নিয়ন্ত্রণে চলছে। এই সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতি এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন তিনি। যেহেতু পশ্চিমবঙ্গে কয়লা পাচার সংক্রান্ত একাধিক মামলার তদন্ত ইতিমধ্যেই সিবিআই ও ইডি করছে এবং সেখানে আগে থেকেই দলের সর্ব ভারতীয় সাধারন সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির নাম জড়িয়ে রয়েছে এবং সেই সঙ্গে রাজ্য পুলিশে আস্থা না রাখা, তাই একজন তৃণমূল সাংসদের এই ধরনের দাবি দলের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
কীর্তি আজাদের এই চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব দ্রুত এই বিষয় থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করে। দলের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যকে ‘ব্যক্তিগত’ বলে অভিহিত করা হয় এবং এটি দলের অবস্থান নয় বলে জানানো হয়। শাসক দলের নেতারা এমন ইঙ্গিত দেন যে, কীর্তি আজাদকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল, যার ভিত্তিতে তিনি এই চিঠি লিখেছেন। এই ঘটনার পর কীর্তি আজাদ নিজেই একটি দ্বিতীয় চিঠি পাঠিয়ে তাঁর আগের চিঠিটি প্রত্যাহার করে নেন এবং জানান যে, কিছু ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তিনি প্রথম চিঠিটি লিখেছিলেন।
কীর্তি আজাদের এই ‘ইউ-টার্ন’ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা, বিশেষ করে বিজেপি, এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার কীর্তি আজাদের প্রত্যাহার করা চিঠিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে কটাক্ষ করেন এবং প্রশ্ন তোলেন, তৃণমূলের ভিতরে যদি কেউ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হন, তাহলে তার কী পরিণতি হয়? বিরোধীদের মতে, এটি প্রমাণ করে যে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ মহলে দুর্নীতি আড়াল করার চেষ্টা চলছে এবং দলের চাপেই কীর্তি আজাদকে পিছু হটতে বাধ্য হতে হয়েছে।
বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন যে, কীর্তি আজাদ যখন ইসিএলের দুর্নীতির তদন্তের জন্য সিবিআই ও ইডির কাছে আবেদন জানান, তখন তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে এই ধরনের বড় মাপের দুর্নীতির তদন্ত রাজ্য পুলিশের পক্ষে সম্ভব নয়। শমীক বলেন, “তিনি (কীর্তি আজাদ) অবৈধ কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে ইডি এবং সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে পুলিশ এই ধরনের মামলার তদন্ত করতে পারবে না। রহস্যজনকভাবে তিনি সেই চিঠি প্রত্যাহার করে নিলেন।”
অন্যদিকে, তৃণমূলের একাংশ এই ঘটনাকে কীর্তি আজাদের রাজনৈতিক অপরিণত সিদ্ধান্ত হিসাবে দেখছে। তাদের মতে, একজন সাংসদ হিসেবে তিনি দলের অবস্থানকে উপেক্ষা করে এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে পদক্ষেপ করেছেন, যা দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। এই ঘটনাটি তৃণমূলের অন্দরমহলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিষয়টিও ফের সামনে এনেছে।