নয়াদিল্লি, ১৮ আগস্ট:
এনডিএ-র উপরাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল সিপি রাধাকৃষ্ণন। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করেন। চার দশকের বেশি সময় ধরে রাজনীতি, সংগঠন ও প্রশাসনের অভিজ্ঞতা অর্জনকারী রাধাকৃষ্ণনের বহুমুখী জীবনযাত্রা এখন দেশের নজরে।
১৯৫৭ সালে তামিলনাড়ুর তিরুপ্পুরে জন্মগ্রহণ করেন সিপি রাধাকৃষ্ণন। বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে স্নাতক হয়ে ছাত্রজীবন থেকেই যোগ দেন আরএসএস-এ স্বয়ংসেবক হিসেবে। ১৯৭৪ সালে তিনি ভারতীয় জনসংঘের রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হন।
১৯৯৮ সালে প্রথমবার কোয়েম্বাটুর থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হন রাধাকৃষ্ণন। ১৯৯৯ সালে পুনর্নির্বাচিত হয়ে টানা দুইবার সাংসদ ছিলেন। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি টেক্সটাইলস কমিটির চেয়ারম্যান ছাড়াও অর্থ ও পাবলিক সেক্টর সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।
২০০৪ সালে তিনি ভারতের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তৃতা দেন। এছাড়াও ভারতের প্রথম সংসদীয় প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে তাইওয়ান সফর করেন।

২০০৪ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত তিনি তামিলনাড়ু বিজেপির সভাপতি ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে আয়োজিত ৯৩ দিনের রথযাত্রা, যা প্রায় ১৯,০০০ কিমি পথ অতিক্রম করে, নদী সংযোগ, সন্ত্রাস দমন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রবর্তন, অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ ও মাদকবিরোধী আন্দোলনের মতো ইস্যু সামনে আনে।
২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি কয়ার বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে ভারতের কয়ার রপ্তানি রেকর্ড গড়ে ₹২,৫৩২ কোটি টাকা ছুঁয়ে ফেলে। ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি কেরালায় বিজেপির সর্বভারতীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মাত্র চার মাসে তিনি রাজ্যের ২৪টি জেলা ভ্রমণ করেন এবং স্থানীয় মানুষ ও প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রাখেন। পরবর্তীতে তিনি তেলেঙ্গানা ও পুদুচেরির অতিরিক্ত দায়িত্বও সামলান।
২০২৪ সালের ৩১ জুলাই থেকে তিনি মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এসময় তিনি গোটা রাজ্য ঘুরে মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছেন।
রাধাকৃষ্ণন কেবল রাজনীতিকই নন, তিনি একজন ক্রীড়াপ্রেমীও। কলেজ জীবনে ছিলেন টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়ন এবং দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়বিদ। ক্রিকেট ও ভলিবল খেলায়ও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। পাশাপাশি তিনি এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকার বহু দেশ সফর করেছেন।
আরএসএস স্বয়ংসেবক থেকে সাংসদ, সংগঠক, রাজ্যপাল—সব ক্ষেত্রেই নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন সিপি রাধাকৃষ্ণন। এবার উপরাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা হওয়ায় রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তাঁর অভিজ্ঞতা সংসদের উচ্চকক্ষে নতুন মাত্রা যোগ করবে।