নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল স্থির করতে মুর্শিদাবাদের মাটি থেকে তৃণমূল ও বিজেপি উভয় শক্তিকে উপড়ে ফেলার ডাক দিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বৃহস্পতিবার বহরমপুরের টেক্সটাইল মোড়ে শ্রমিক, কৃষক ও খেতমজুরদের এক বিশাল সমাবেশে মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট করে দিলেন, বাংলার ভবিষ্যৎ কোনো ‘হিল্লি-দিল্লি’ ঠিক করবে না, বরং তা ঠিক করবে এদেশের মেহনতী মানুষ। একইসঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে জোট প্রক্রিয়া নিয়ে কংগ্রেসকে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “সময় চলে যাচ্ছে, এবার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
এদিন সমাবেশের মঞ্চ থেকে ভোটার তালিকায় নাম সংশোধনের নামে ‘এসআইআর’ নোটিশের তীব্র বিরোধিতা করেন সেলিম। তিনি প্রশ্ন তোলেন কেন লক্ষ লক্ষ ভোটারকে নতুন করে শুনানির নোটিশ দেওয়া হচ্ছে? কেন বেছে বেছে নির্দিষ্ট জাতি, লিঙ্গ ও ধর্মের মানুষকে টার্গেট করা হচ্ছে? সরকারি আধিকারিকদের করা ভুলের খেসারত সাধারণ মানুষ কেন দেবেন?
তিনি বর্তমান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘জ্ঞানপাপী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “আরএসএস-এর দেওয়া ১ কোটি ৪০ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার কর্মসূচি সফল করতেই আজকের বিডিও, এসডিও আর ডিএম-রা উঠেপড়ে লেগেছেন। কিন্তু মেহনতী মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে চাইলে লাল ঝাণ্ডার লড়াই আরও তীব্র হবে।”

মুর্শিদাবাদ ও মালদার রাজনৈতিক সমীকরণে কংগ্রেসের গুরুত্ব মাথায় রেখেই মহম্মদ সেলিম এদিন জোট নিয়ে বড় বার্তা দেন। তিনি বলেন, “আমরা বামফ্রন্টের দলগুলো একসঙ্গেই লড়ব। আমরা কংগ্রেস এবং আইএসএফ-কেও (ISF) বলেছি যারা বিজেপি-তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়তে রাজি তারা এককাট্টা হোন। কিন্তু কংগ্রেস তাকিয়ে আছে দিল্লি কী বলছে। আমি পরিষ্কার বলছি, মালদা, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমে কংগ্রেসকে এবার সিদ্ধান্ত নিতেই হবে, কারণ মানুষ পরিবর্তন চাইছে।”
“তৃণমূল চুরি-জোচ্চুরি করেছে বলেই আজকে দিল্লির মাতব্বরি বেড়েছে। জ্যোতি বসু যখন মহাকরণে ছিলেন, তখন দিল্লির কোনো তল্পিবাহকের হিম্মত হতো না বাংলার মানুষকে চোখ রাঙানোর।” — মহম্মদ সেলিম
উত্তরে প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়ন্ত দাস সেলিমের এই আহ্বানকে ‘যথার্থ’ বলে মানলেও জানিয়েছেন যে, চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তাঁদের সর্বভারতীয় কংগ্রেস নেতৃত্বের (AICC) ওপর নির্ভর করতে হয়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টিনে এনে সেলিম এদিন বলেন, “ইতিহাস সাক্ষী, পলাশির প্রান্তরে বিশ্বাসঘাতকদের জন্য সিরাজউদ্দৌল্লার পতন গোটা দেশের ইতিহাস বদলে দিয়েছিল। আজও সেই বিশ্বাসঘাতকদের চিনে নেওয়ার সময় এসেছে। বাংলার ভবিষ্যৎ ঠিক করবে এই মুর্শিদাবাদই।” তিনি পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে তৃণমূল-বিজেপির ‘গোপন আঁতাত’-এর অভিযোগও তোলেন।
এদিন সমাবেশ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলা সিপিআই(এম) সম্পাদক জামির মোল্লা, মহিলা নেত্রী শেখ হাসিনা, সোমনাথ সিংহ রায়, সচ্চিদানন্দ কাণ্ডারী এবং জ্যোতিরূপ ব্যানার্জি প্রমুখ। বহরমপুর স্টেডিয়াম ও পঞ্চাননতলা মোড় থেকে আসা তিনটি বিশালাকার মিছিল এদিন টেক্সটাইল মোড়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয়।