প্রসূতি ও শিশুদের নিম্নমানের খাবার দেওয়ার অভিযোগ, সুপারভাইজারকে ঘিরে অভিভাবকদের ক্ষোভ
মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের কলমপাড়া এলাকার একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে খাবারে ভয়াবহ বেনিয়মের ঘটনা সামনে এসেছে। প্রসূতি ও শিশুদের জন্য রান্না করা খিচুড়িতে সেদ্ধ শুঁয়োপোকা পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির খাবারের মান এবং পরিদর্শনের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
মালদা, ২৭ জুলাই ২০২৫: অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে খাবারে ফের বেনিয়ম ও বেহাল দশার ছবি সামনে এল। এবার মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের কলমপাড়া এলাকার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের খিচুড়িতে সেদ্ধ হয়ে গেল শুঁয়োপোকা। সেই খিচুড়ি দেওয়া হলো প্রসূতি ও শিশুদের। ঘটনা সামনে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
শুঁয়োপোকা যুক্ত খিচুড়ি নজরে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দারা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই কেন্দ্রে খাবারের মান নিয়ে বেনিয়ম চলছে। এর আগেও খিচুড়িতে আরশোলা, ধুলো-বালি পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিভাবকরা দাবি করেছেন। রান্নার সময় চাল-ডাল সঠিকভাবে পরিষ্কার করা হয় না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সুপারভাইজার রুমি মণ্ডল সেন্টারে গেলে তাঁকেও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা তাঁকে ঘিরে ধরে তাঁদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, কলমপাড়া সেন্টারের নিয়মিত কর্মী দীপ্তি ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতভাবে কেন্দ্রে আসেন না। তিনি মালদহ শহরে থাকেন এবং সেন্টারের দায়িত্ব কার্যত সহায়িকার হাতে। ঘটনার দিনও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। যদিও তিনি দাবি করেছেন যে, স্বামীর চিকিৎসার কারণে তিনি ছুটিতে মালদায় রয়েছেন।
সুপারভাইজার রুমি মণ্ডল ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, “এই ধরনের খাবার শিশুদের জন্য বিপজ্জনক। তিনি রিপোর্ট তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনা শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের দায়িত্বে থাকা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রগুলিতে এমন গাফিলতি মারাত্মক উদ্বেগের বিষয়। স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত কর্মীরা কেন্দ্রে আসেন না এবং খাবারের গুণমানের কোনও নজরদারি হয় না। এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দুটোই বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তরফে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই আশা এলাকাবাসীর।