নিউজ ফ্রন্ট – ইজরায়েল গতরাতে ইরানের পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র, ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা এবং বরিষ্ঠ সেনা অধিকারিকদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে অভূতপূর্ব হামলা চালিয়েছে। এই আক্রমণে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড (IRGC) এর শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল হোসেইন সালামিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব নিহত হয়েছেন।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, “রাইজিং লায়ন” নামের এই অভিযান আগামী বেশ কিছুদিন চলবে। তিনি বলেছেন, এই অপারেশন নাতাঞ্জে ইরানের প্রধান ইউরেনিয়াম কেন্দ্র, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচীর প্রাণকেন্দ্রে আক্রমণ চালিয়েছে।
এই হামলায় ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম IRGC-র শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল হোসেইন সালামি নিহত হয়েছেন। এছাড়াও ইরানের সশস্ত্র সেনার প্রধান মহম্মদ বাঘেরি এবং পরমাণু শক্তি সংগঠনের প্রাক্তন প্রধান ফরেদুন আব্বাসিও এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই হামলার ফলে তেজস্ক্রিয় নির্গমণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়নি। বুশের পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্র অক্ষত রয়েছে।
মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “আমেরিকা এই হামলায় কোনভাবেই জড়িত নয়। ওই অঞ্চলে কর্মরত মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তাই এখন তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।“
ইরানের সশস্ত্র সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবল ফজল শেকারচি কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, “এই হামলার জন্য ইজরায়েল ও আমেরিকাকে ভারী মূল্য চোকাতে হবে।“ ইরান প্রত্যাঘাত করার জন্য প্রস্তুত বলেও জানিয়েছে।
ইরানের সরকারী সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহেরানে জনবসতিপূর্ণ এলাকা লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় শিশুসহ সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সে দেশের আকাশপথ।
ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, আক্রমণের প্রেক্ষিতে ইরান পাল্টা জবাব দিতে পারে। এজন্য জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এই হামলাকে কেন্দ্র করে পশ্চিম এশিয়ায় আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টির আশংকা তীব্র হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।