রায়গড়, শিবনেরী, সিন্ধুদুর্গ-সহ মোট ১২টি মারাঠা দুর্গ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় স্থান পেয়েছে। এই দুর্গগুলি মারাঠা সাম্রাজ্যের কৌশলগত দক্ষতা, সাংস্কৃতিক গৌরব ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের প্রতীক।
দিল্লি, ১২ জুলাই | নিউজ ফ্রন্ট:
এক ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক গর্বের মুহূর্তে ভারতের ‘Maratha Military Landscapes’ বা মারাঠা সামরিক দৃশ্যপট ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর ফলে ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী স্থানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৪-এ। এই ঘোষণা ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৪৭তম ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির অধিবেশনে শুক্রবার জানানো হয়।
- মোট ১২টি দুর্গ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১১টি মহারাষ্ট্রে এবং একটি তামিলনাড়ুতে অবস্থিত।
- দুর্গগুলি গড়ে উঠেছিল ১৭শ থেকে ১৯শ শতকের মধ্যে, মারাঠা শাসকদের প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক কৌশলের ভিত্তিতে।
- রায়গড়, শিবনেরী ও সিন্ধুদুর্গ সহ অন্যান্য দুর্গগুলি প্রাকৃতিক ভূপ্রকৃতি, প্রতিরক্ষা কৌশল ও স্থানীয় স্থাপত্যের অপূর্ব সংমিশ্রণ তুলে ধরে।
এই দুর্গগুলি শুধু প্রতিরক্ষার জন্য নয়, বাণিজ্যপথ রক্ষা, অঞ্চল দখল ও মারাঠা সাম্রাজ্যের সামরিক-রাজনৈতিক শক্তির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হত।
দুর্গগুলো উপকূল থেকে শুরু করে পাহাড়ের চূড়া পর্যন্ত বিস্তৃত। এদের নির্মাণে ব্যবহার হয়েছে স্থানীয় সামরিক কৌশল ও নির্মাণ প্রযুক্তি, যা একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে ফুটিয়ে তোলে। এই দুর্গসমূহ প্রমাণ করে, মারাঠা শাসকেরা কেবল দখলদারি নয়, বরং উন্নত প্রশাসন, সামাজিক কল্যাণ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রেও অগ্রগণ্য ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ লেখেন: “প্রত্যেক ভারতবাসীর জন্য আজ গর্বের দিন।
এই ‘Maratha Military Landscapes’-এ ১২টি বিখ্যাত দুর্গ রয়েছে, যেগুলির ১১টি মহারাষ্ট্রে এবং ১টি তামিলনাড়ুতে।
মারাঠা সাম্রাজ্য মানেই সুশাসন, সামরিক দক্ষতা, সাংস্কৃতিক গর্ব এবং সামাজিক কল্যাণের প্রতীক।
আমি সবাইকে আহ্বান জানাই, এই দুর্গগুলি ঘুরে দেখুন এবং মারাঠা ইতিহাসের সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার জানুন।
২০১৪ সালে রায়গড় দুর্গ সফরের স্মৃতি আজও আমার কাছে অমূল্য। ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের প্রতি সেদিন শ্রদ্ধা নিবেদন করার সুযোগ পেয়েছিলাম।”

এই স্বীকৃতির ফলে ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত হেরিটেজ সাইটের সংখ্যার বিচারে বিশ্বে ষষ্ঠ এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল ভারত।
মারাঠা সাম্রাজ্যের এই দুর্গসমূহ কেবলমাত্র ইতিহাস নয়, বরং জাতীয় গর্ব, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও সাহসী নেতৃত্বের নিদর্শন। ইউনেস্কোর এই স্বীকৃতি মারাঠা ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরল, যা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এক অমূল্য সম্পদ।