ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের প্রথম ব্যাচ পৌঁছল: ১৫ মাসের অপেক্ষার অবসান, বাড়ছে সামরিক শক্তি

১৫ মাসেরও বেশি সময় অপেক্ষার পর ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টারের প্রথম ব্যাচ ভারতে এসে পৌঁছেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা এই তিনটি AH-64E হেলিকপ্টার শীঘ্রই যোধপুরে মোতায়েন করা হবে, যা দেশের সামরিক সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলবে।

নিউজ ফ্রন্ট, ২২ জুলাই, নয়াদিল্লি:

ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য দীর্ঘ ১৫ মাসেরও বেশি অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অত্যাধুনিক অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টারের প্রথম ব্যাচ মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে এসে পৌঁছেছে। এই তিনটি AH-64E অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভারতীয় সেনাবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে বলে সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে, এই হেলিকপ্টারগুলি ২০২৪ সালের মে থেকে জুনের মধ্যে ভারতে আসার কথা ছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের কারণে এই ডেলিভারিতে ১৫ মাসের বেশি বিলম্ব হয়। ২০২০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ৬০০ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তির অধীনে ভারতীয় সেনাবাহিনী মোট ছয়টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই চুক্তির অধীনে বাকি তিনটি হেলিকপ্টার চলতি বছরের শেষের দিকে ভারতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সেনাবাহিনী এটিকে “একটি মাইলফলক মুহূর্ত” হিসেবে উল্লেখ করে নিশ্চিত করেছে যে, এই হেলিকপ্টারগুলি শীঘ্রই যোধপুরে মোতায়েন করা হবে। যোধপুরে ১৫ মাসেরও বেশি আগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রথম অ্যাপাচি স্কোয়াড্রন গঠিত হয়েছিল, কিন্তু হেলিকপ্টারগুলির আগমনের অপেক্ষায় তাদের মোতায়েন স্থগিত ছিল। এই হেলিকপ্টারগুলির আগমন বিশেষত পশ্চিমা সীমান্তে (পাকিস্তান সংলগ্ন) ভারতের আক্রমণাত্মক ও গোয়েন্দা সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে শক্তিশালী করবে।

বোয়িং নির্মিত AH-64E অ্যাপাচি বিশ্বের অন্যতম উন্নত মাল্টি-রোল অ্যাটাক হেলিকপ্টার। এর ভারী বর্ম, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র এবং শত্রুর আক্রমণ সহ্য করার ক্ষমতার জন্য এটিকে প্রায়শই “উড়ন্ত ট্যাঙ্ক” বা “ট্যাঙ্ক কিলার” বলা হয়। এটি উন্নত লক্ষ্য নির্ধারণ, নেভিগেশন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় সজ্জিত। এতে ৩০ মিমি চেইন গান, হেলফায়ার মিসাইল, রকেট পড এবং লংবো রাডার রয়েছে, যা দিন-রাত এবং প্রতিকূল আবহাওয়াতেও নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম। এছাড়া, নাইট ভিশন এবং থার্মাল সেন্সর এটিকে রাতে এবং খারাপ আবহাওয়ায় শত্রুদের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাতে সাহায্য করে।

উল্লেখ্য, ভারতীয় বিমান বাহিনী ২০১৫ সালের একটি পৃথক চুক্তির অধীনে ইতিমধ্যেই ২২টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সংগ্রহ করেছে, যা ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে সরবরাহ করা হয়েছিল এবং দুটি সক্রিয় স্কোয়াড্রন গঠন করেছে। সেনাবাহিনীর জন্য এই ছয়টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সংগ্রহ স্থলবাহিনীর জন্য নিবেদিত বিমান সহায়তা প্রদানের একটি কৌশলগত পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে। বিদেশী অধিগ্রহণের পাশাপাশি, ভারত দেশীয় হেলিকপ্টার উন্নয়নেও মনোযোগ দিচ্ছে। হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) দ্বারা ডিজাইন করা লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার (LCH) প্রচণ্ড-এর উৎপাদন চলছে, যা উচ্চ-উচ্চতার অপারেশনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। অ্যাপাচি এবং প্রচণ্ড একসাথে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এভিয়েশন কর্পসকে আধুনিকীকরণের জন্য একটি স্তরযুক্ত পদ্ধতি তৈরি করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *