নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫:
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন তৈরি হওয়া খসড়া তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে আসন্ন খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৩৫ লক্ষ ২৩ হাজার ৮০০ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত নাও হতে পারে।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ করেছেন। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
ওই কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যে নামগুলি খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলিকে মোট চারটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এই বিভাজনটি হল মৃত ভোটার (Dead) ১৮ লক্ষ ৭০ হাজার, স্থানান্তরিত ভোটার (Shifted) ১১ লক্ষ ৮২ হাজার, অনুপস্থিত ভোটার (Absent) ৩ লক্ষ ৮০ হাজার, ডুপ্লিকেট ভোটার (Duplicate) ৭৭ হাজার ৫৬৫।
এই পরিসংখ্যানের মধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যাই সর্বাধিক (প্রায় ৫৩%), যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণিত হচ্ছে। তবে ‘স্থানান্তরিত’ (Shifted) এবং ‘অনুপস্থিত’ (Absent) ভোটারের সংখ্যাও উদ্বেগজনকভাবে বেশি।
এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার আশঙ্কার খবর সামনে আসতেই রাজ্যের রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) প্রথম থেকেই অভিযোগ করে আসছে যে SIR প্রক্রিয়াটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শুরু করা হয়েছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্যের বাঙালি ভোটারদের টার্গেট করা হচ্ছে। ৩৫ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা সেই উদ্বেগকেই আরও বাড়িয়ে তুলল।
সম্প্রতি ECI এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার সুব্রত গুপ্তকে ‘বিশেষ রোল পর্যবেক্ষক’ হিসাবে নিয়োগ করেছে। এই নিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হলো, যোগ্য কোনো ব্যক্তি যেন তালিকা থেকে বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কোনো ভোটার যেন অন্তর্ভুক্ত না হন তা নিশ্চিত করা।
যেহেতু এই সংখ্যাটি শুধুমাত্র প্রাথমিক অনুমান, তাই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এর বাস্তব প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া কঠিন। তবে এই বিশাল সংখ্যাটি নিশ্চিতভাবেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সংশয় তৈরি করবে।