পুজোয় SSC-র ফল, নভেম্বরে ইন্টারভিউ: শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু

বাংলার প্রতি ‘বিজেপি’ শাসিত রাজ্যের শিক্ষিত বেকারদের আস্থাই ‘ডবল ইঞ্জিন’-এর ব্যর্থতার প্রমাণ: শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু

কলকাতা: রাজ্যে এসএসসি-র লিখিত পরীক্ষার দ্বিতীয় দফা রবিবার সম্পন্ন হলো। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আয়োজিত এই পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু কড়া বার্তা দিলেন বিরোধীদের পাশাপাশি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোকেও। পরীক্ষার শেষে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানান, পুজোর পরেই ফল প্রকাশ করা হবে এবং নভেম্বর মাসেই ইন্টারভিউ প্যানেল প্রকাশ করা হবে। একইসঙ্গে, বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর উপস্থিতি নিয়ে তিনি বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন।

পরীক্ষার ফলাফল ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়সীমা

শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে এই পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর নবম-দশম শ্রেণির পরীক্ষার উত্তরপত্র আপলোড করা হবে, এবং ২০ সেপ্টেম্বর একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির উত্তরপত্র প্রকাশিত হবে। পরীক্ষার্থীরা তাদের মতামত জানানোর জন্য পাঁচ দিন সময় পাবেন। এরপর নভেম্বরে ইন্টারভিউ প্যানেল প্রকাশ করা হবে।

SSC-এর চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার জানান, নবম-দশম শ্রেণির জন্য মোট ২ লক্ষ ৯৩ হাজার ১৯২ জন এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য ২ লক্ষ ২৯ হাজার ৪৯৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন। এই সুষ্ঠু পরীক্ষার মধ্য দিয়ে দুই বছরের নানা ঘাত-প্রতিঘাতের অবসান ঘটল।

পরীক্ষার্থীদের পরিসংখ্যান এবং বিজেপির দিকে ইঙ্গিত

শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু পরীক্ষার শেষে যে পরিসংখ্যান পেশ করেন, তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জানান, ৭ সেপ্টেম্বরের পরীক্ষায় ভিন রাজ্যের ৩১,৩৬২ জন এবং ১৪ সেপ্টেম্বরের পরীক্ষায় ১৩,৫১৭ জন পরীক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে একটি বড় অংশই এসেছেন উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে।

ব্রাত্য বসু বলেন, “এই তথ্য থেকে এটা স্পষ্ট যে, বহু আড়ম্বরপূর্ণ ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতার খতিয়ান আসলে কত। যদি তাদের রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকত, তাহলে এত বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী বাংলায় আসতেন না।”

তুমি অধম হইলে আমি উত্তম হইব না কেন?’ – বাংলার সংস্কৃতি নিয়ে ব্রাত্য

ব্রাত্য বসু স্পষ্ট করে দেন যে, বাংলার সংস্কৃতি কখনোই ‘পুশব্যাক’ বা বহিরাগতদের হেনস্থা করার পক্ষপাতী নয়। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্ম, জাত-পাত বা আঞ্চলিকতার ভিত্তিতে কোনো বিভাজন করেননি। তাঁর দলের লোকেরাও কখনও ভিন রাজ্যের মানুষের দিকে লাঠি নিয়ে তেড়ে যাননি।” তিনি আরও বলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিরা ‘বাংলাদেশি’ বলে হেনস্থা হচ্ছেন, কিন্তু বাংলা সেই সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে না। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, “তুমি অধম হইলে আমি উত্তম হইব না কেন?”

তিনি এও মনে করিয়ে দেন যে, ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের যে সিদ্ধান্ত নেহেরু নিয়েছিলেন, সেখানে বাংলা নিয়ে কোনো বিতর্ক ছিল না। বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে যারা পরীক্ষা দিতে আসছেন, তাদের প্রতি কোনো ধরনের অসম্মান করা হবে না, বরং তাদের সব রকম সুযোগ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

নিয়োগ বন্ধের চক্রান্ত এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

শিক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, যখনই বাংলার সরকার চাকরির দরজা খোলার চেষ্টা করে, তখনই বিরোধীরা আদালত পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়াকে টেনে নিয়ে গিয়ে বন্ধ করে দেয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর দুদফায় এসএসসি-র লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরও বিরোধী দলনেতা মামলা করে পুরো প্রক্রিয়াকে স্তব্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।

ব্রাত্য বসু বলেন, “যাঁরা মামলা করবেন, তাঁদের মনে রাখা উচিত যে, এই পরীক্ষার্থীরা আমাদের রাজ্যেরই ছেলে-মেয়ে। প্রমাণ ছাড়া গুজব ছড়িয়ে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করা হচ্ছে।” তিনি জানান, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের যে অভিযোগ বিরোধীরা তুলেছিলেন, তার কোনো প্রমাণ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *