অন্তর্বর্তী জামিন বহাল রাখলো আদালত, ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে ইডি
কলকাতা, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড় ধরনের স্বস্তি পেলেন রাজ্যের কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। কলকাতার বিশেষ সিবিআই আদালত আজ মন্ত্রীর অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন বহাল রেখেছে এবং তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইডি-র আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। বিশেষ আদালতের বিচারক শুভেন্দু সাহার পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ইডি এই তদন্তে অনেক বেশি সময় লাগিয়েছে, তাই এই মুহূর্তে মন্ত্রীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো প্রয়োজন নেই।
কেন ইডি-র আবেদন খারিজ হলো?
আদালত সূত্রের খবর অনুযায়ী, ইডি মন্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানালেও বিচারক তাতে সায় দেননি। ইডি-র দাবি ছিল, আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন বিপুল সম্পত্তির উৎস এবং তদন্তে অসহযোগিতার কারণে মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। কিন্তু বিচারক মনে করেন, তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতা প্রমাণ করে যে এখনই মন্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়া অপরিহার্য নয়। তবে, আদালত ইডি-কে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে। শর্ত সাপেক্ষে, ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মন্ত্রীকে তাদের অফিসে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে ইডি। রাতভর জেরার অনুমতি না থাকায় ইডি-র উপর একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলো।
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, বহিষ্কৃত তৃণমূল যুবনেতা কুন্তল ঘোষের জবানবন্দিতে প্রথম চন্দ্রনাথ সিনহার নাম উঠে আসে। এরপর ইডি মন্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে সন্দেহজনক লেনদেনের খোঁজ পায়। ইডি-র দাবি, প্রায় ১৫৯ জন প্রার্থীর কাছ থেকে তিনি গড়ে ৮ লক্ষ টাকা করে অর্থাৎ প্রায় ১২.৭২ কোটি টাকা নিয়েছিলেন। এই বিপুল অঙ্কের টাকা কোথায় গেল, তা এখনও অজানা।
আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, “আইনের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা ছিল এবং আগামীতেও থাকবে। আদালতের সব নির্দেশ মেনে চলব।” এখন দেখার বিষয়, ইডি নতুন কোনো তথ্য সামনে আনতে পারে কিনা, যা ভবিষ্যতে মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। আদালতও পর্যবেক্ষণ করেছে, তদন্ত এগোতে হবে নিরপেক্ষভাবে এবং সময় নষ্ট না করে।