নাগরাকাটায় বিজেপি সাংসদ- বিধায়ক আক্রান্ত, মুখ্যমন্ত্রী মমতার মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন শুভেন্দু অধিকারী


নিউজ ফ্রন্ট | শিলিগুড়ি | ৭ অক্টোবর ২০২৫

নাগরাকাটায় বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের ওপর হামলার পর রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। মঙ্গলবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুধিয়ার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে উত্তরকন্যায় যাওয়ার পথে শিলিগুড়ির হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংসদ খগেন মুর্মুকে দেখতে যান। কিন্তু তাঁর হাসপাতাল পরিদর্শনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে পৌঁছান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, তাঁর সঙ্গে ছিলেন ত্রিপুরার সাংসদ বিপ্লব দেব, এবং রাজ্যের একাধিক বিজেপি বিধায়ক-সাংসদ।

আহত সাংসদ খগেন মুর্মুর অবস্থা গুরুতর

হাসপাতালে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার পর শুভেন্দু জানান — “খগেন মুর্মুর ইনজুরিটা বেশ সিরিয়াস। আজ তাঁর এমআরআই ও স্ক্যানে দেখা গেছে, কোমরের কাছে সেনসিটিভ হাড়ে গুরুতর ফ্র্যাকচার হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অন্তত চার সপ্তাহ তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করতে হবে। প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারও হতে পারে।”

তিনি আরও জানান, খগেন মুর্মুকে আপাতত হাসপাতালেই ট্র্যাকশনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, এবং কথাবার্তা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

শুভেন্দুর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খগেন মুর্মুর সঙ্গে দেখা করলেও আহত বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে উপেক্ষা করেছেন

“একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এটা অমানবিক আচরণ। যিনি হাসপাতালে শুয়ে আছেন, তাঁর পাশে দাঁড়ানোই মানবিকতা। কিন্তু উনি শুধু একজনকে দেখে চলে গেলেন। এটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সংস্কৃতি,” — বলেন শুভেন্দু।

শুভেন্দুর তোপ: “মানবিকতা নেই মুখ্যমন্ত্রীর”

বিজেপি নেতার আরও অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খগেন মুর্মুকে দেখে মিথ্যা দাবি করেছেন যে তাঁর চোট গুরুতর নয়।

“আমি ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেছি — ওনার অবস্থা সঙ্গীন। অথচ মুখ্যমন্ত্রী বাইরে বেরিয়ে বলছেন ‘গুরুতর নয়’। এটা একেবারেই মিথ্যা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য,” — তীব্র ভাষায় বলেন শুভেন্দু। তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যখন হাসপাতালে ছিলেন, তখন বিজেপি সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি নিজে ফোনে সবাইকে থামিয়েছি। কারণ বিজেপি এই সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে না।”

নাগরাকাটায় বিজেপি সাংসদ-বিধায়কের ওপর হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
শুভেন্দু জানান, “২৪ ঘণ্টা কেটে গেছে, কিন্তু নো অ্যারেস্ট! এটা প্রমাণ করে পুলিশ প্রশাসন একেবারে পক্ষপাতদুষ্ট। যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, আমরা কালই কলকাতা হাইকোর্টে যাব।”

অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গুন্ডাদের আশ্রয়দাতা। তাই সাংসদ-বিধায়ক আক্রান্ত হওয়ার পরও পুলিশ অভিযুক্তদের ধরছে না। আমরা NIA তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগেই জানিয়েছেন, বিজেপি নেতাদের ওপর হামলার ঘটনার তদন্ত চলছে, এবং বন্যা মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকারের “অসহযোগিতার কারণে” রাজ্যে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
তবে শুভেন্দুর দাবি, “এটা পুরোটাই মিথ্যা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ইতিমধ্যেই ৬ হাজার কোটি টাকার ফান্ড দিয়েছে।”

নাগরাকাটার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি আরও উত্তপ্ত। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী আহত সাংসদকে দেখতে গিয়ে মানবিকতা দেখানোর চেষ্টা করলেও, অপরদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তুলেছেন সেই মানবিকতার সত্যতা নিয়েই। এখন নজর — বিজেপির ঘোষিত ‘অল আউট’ আন্দোলন, এবং আগামীকাল হাইকোর্টে কী পদক্ষেপ নেয় দল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *