নিউজ ফ্রন্ট, শিলিগুড়ি, ২৮ অক্টোবর:
অবশেষে দুধিয়ার মানুষের মুখে হাসি ফিরল। মাত্র ১৬ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ হলো বিকল্প হিউম পাইপ সেতুর নির্মাণকাজ, যা সোমবার থেকেই যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ফের সচল হলো মিরিক-শিলিগুড়ি রুট, যুক্ত হলো পাহাড় ও সমতল।
গত ৫ অক্টোবর বালাসন নদীর উপর অবস্থিত ১৯৬৫ সালে নির্মিত দুধিয়া সেতুটি প্রবল বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় দার্জিলিং জেলার মিরিক উপত্যকার সঙ্গে শিলিগুড়ির যোগাযোগ। স্থানীয় মানুষ, ব্যবসায়ী ও পর্যটক সকলে চরম দুর্ভোগে পড়েন। সাধারণত শিলিগুড়ি থেকে মিরিক যেতে দেড় ঘণ্টা সময় লাগলেও, সেতু ভাঙার পর বিকল্প পথে ঘুরে যেতে হচ্ছিল তিন থেকে চার ঘণ্টা, তাও অতিরিক্ত ভাড়া গুনে।

মানুষের এই দুর্ভোগে দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গে এসে পরিস্থিতি পরিদর্শনের পর তিনি নির্দেশ দেন, “দুধিয়ায় অবিলম্বে অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে হবে।” তাঁর সেই নির্দেশের পরেই রাজ্য পূর্ত দপ্তর ও জলসম্পদ দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় বিকল্প হিউম পাইপ সেতুর নির্মাণকাজ।
মাত্র ১৬ দিনের মধ্যেই তৈরি হয়েছে ৪৬৮ মিটার দীর্ঘ এই সেতু, যেখানে ব্যবহৃত হয়েছে ১২০০ মিলিমিটার ব্যাসের ১৩২টি হিউম পাইপ। এর উপর নির্মিত হয়েছে ৭২ মিটার দীর্ঘ কজওয়ে, যা ৮ মিটার চওড়া। ফলে ছোট ও মাঝারি যানবাহন সহজেই চলাচল করতে পারছে।

রবিবার মুখ্যমন্ত্রী সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে লেখেন “দুধিয়ায় বিকল্প হিউম পাইপ সেতু সফলভাবে নির্মিত হয়েছে, যা মিরিককে ফের শিলিগুড়ির সঙ্গে সংযুক্ত করবে। সোমবার থেকেই এই সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হবে।”
তিনি পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার, কর্মী, শ্রমিক ও স্থানীয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “মাত্র ১৬ দিনে এই বিশাল কাজ সম্পন্ন হওয়া সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি প্রমাণ করে, আমরা মানুষের পাশে আছি কথায় নয়, কাজে।”
একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, পুরনো সেতুর স্থানে স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রকল্প ইতিমধ্যেই হাতে নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার ₹৫৪ কোটি টাকার ব্যয়ে নতুন স্থায়ী সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকদের মতে, আগামী বছরের জুলাইয়ের মধ্যে স্থায়ী সেতুটি সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই উদ্বোধন প্রসঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেছেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন,
“দিদি এখন নিজেই ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গিয়েছেন, তো আমরা কী করব! দিদি এখন যেন লিওনার্দো দা ভিঞ্চি হয়ে গেছেন। কেউ কি দিদিকে বলেছে, বাংলার সব ব্রিজ ভেঙে পড়ছে— এগুলোর ঠিক করুন? মুর্শিদাবাদের সেতুগুলোর তো আরও বেহাল অবস্থা। যে রাস্তায় ৪০ টনের গাড়ি যাওয়ার কথা, সেখানে এখন ১০০ টনের গাড়ি যাচ্ছে, সবই ঘুষ দিয়ে। দিদি এখন পাইপ বসিয়ে কী করবেন, তা আমরা জানি না।”
দুধিয়ার এই নতুন হিউম পাইপ সেতু শুধুমাত্র একটি অস্থায়ী সমাধান নয়, এটি পাহাড় ও সমতলের মধ্যে আবারও একতার সেতুবন্ধন তৈরি করেছে, যা স্থানীয় মানুষের জীবনে স্বস্তির হাওয়া এনে দিয়েছে।