উত্তরপ্রদেশের সম্বলে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বর সহ প্রাণ হারালেন ৮ জন, শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

নিউজ ফ্রন্ট | ৫ জুলাই, সম্বল:
উত্তরপ্রদেশের সম্বল জেলার জুনাবাই থানার অন্তর্গত এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক ২৪ বছর বয়সি বর, তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনরা। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আরও দুই ব্যক্তি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।


জানা গিয়েছে, সম্বলের হরগোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা সূরজ (২৪) বিয়ের বরযাত্রী নিয়ে বদায়ুঁ যাচ্ছিলেন। পথে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ তাদের বহনকারী একটি বোলেরো গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে একটি ইন্টার কলেজের দেওয়ালে সজোরে ধাক্কা মারে।

ঘটনাস্থলেই ৫ জনের মৃত্যু, পরে হাসপাতালে আরও ৩ জনের
গাড়িতে মোট ১০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বর সূরজ, তার ভাবী আশা (২৬), তার ২ বছর বয়সি ভাতিজি ও ৬ বছরের ভাইপো বিষ্ণুসহ মোট ৫ জনের। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জেসিবির সাহায্যে গাড়ির ধ্বংসাবশেষ কেটে যাত্রীদের বের করে হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
সম্ভল জেলা পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিশনোই জানিয়েছেন, “এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। দুটি পরিবারের সদস্যরা এই দুর্ঘটনায় শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। তদন্ত চলছে, এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”


এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক্স-এ (পূর্বতন টুইটার) করা পোস্টে তিনি লেখেন—
“উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানিতে আমি গভীর ভাবে শোকাহত। যারা আপনজনকে হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার সহানুভূতি রইল।”
প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, মৃতদের পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে।


দুর্ঘটনায় মৃত বর সূরজ, তার ভাবী আশা, তাদের শিশুভাইপো ও ভাইঝি—একসঙ্গে চারটি প্রাণ একই পরিবারের। বাকিরাও আত্মীয়। এক রাতেই পুরো পরিবার কার্যত নিঃশেষ। গ্রামে শোকের ছায়া, চারপাশে কান্নার রোল।


বিয়ের আনন্দ মুহূর্তে বিষাদে পরিণত হল। এই ঘটনা ফের প্রমাণ করল, অতিরিক্ত গতি ও নিয়ন্ত্রণহীন ড্রাইভিং কীভাবে প্রাণ কেড়ে নিতে পারে। প্রশাসন তদন্ত শুরু করলেও, এই দুর্ঘটনা যেন শুধু সরকারি পরিসংখ্যানের এক সংখ্যা হয়ে না পড়ে—তা নিশ্চিত করতেই হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *