নওদায় পুলিশের হানায় উদ্ধার ১ হাজার কেজির বেশি ভেজাল সরষের তেল!

নওদা, মুর্শিদাবাদ | ২৬ জুলাই, ২০২৫:
ভোজ্য তেলে ভেজালের বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপ নিল মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ। শনিবার দুপুরে গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওদা থানার উল্লাসপুর গ্রামে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে উদ্ধার হয় ১,০৬৫ কেজি ভেজাল সরষের তেল

অভিযান চালানো হয় তুষার কান্তি সাহা ওরফে বাপ্পার বাড়ির তেল প্রস্তুতকারক ইউনিটে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নওদা ব্লকের খাদ্য নিরাপত্তা আধিকারিক কাজরী সাহা। পুলিশ ও খাদ্য দপ্তরের এই যৌথ অভিযানে যে সব জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয়, সেগুলি হল—

৭১টি টিন (প্রতি টিনে ১৫ কেজি করে) ভেজাল সরষের তেল — মোট পরিমাণ ১,০৬৫ কেজি, ৭টি খালি পাম তেলের টিন (বিভিন্ন কোম্পানির), ১টি ডিজিটাল ওজন মেশিন ও ১টি লোহার তৈরি ক্যাপ পাঞ্চিং মেশিন

অভিযুক্ত তুষার কান্তি সাহার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একটি নির্দিষ্ট মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই তেলের উৎস ও সরবরাহ চক্র নিয়ে তদন্ত চলছে।

পুলিশ ও খাদ্য দফতর সূত্রে খবর, ভেজাল তেল এই এলাকার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও সরবরাহ করা হতো। জনস্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক এই ভেজাল সরষের তেল বাজারে ছড়িয়ে পড়ার আগেই প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা আটকানো সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, শুধু নওদা নয়, পাশের হরিহরপাড়া ও ডোমকলে বিস্তৃত রয়েছে ভেজাল মশলার গোপন সাম্রাজ্য

ডোমকলের একাধিক গ্রামে দেশি মশলা— হলুদ, শুকনো লঙ্কা, জিরে, কালোজিরে, ধনে ও গরম মশলা—বড় পরিমাণে ভেজাল করে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই সমস্ত মশলা পিষে প্যাকেটজাত করা হচ্ছে লেবেল ছাড়া এবং তা ছড়িয়ে পড়ছে মুর্শিদাবাদের রাঢ় অঞ্চল, নদীয়া, এমনকি ওড়িশা ও আসাম পর্যন্ত

এই চক্রের অন্যতম ভয়ঙ্কর দিক হল, প্রশাসনের চোখের সামনে প্রকাশ্যেই চলছে এই অবৈধ ব্যবসা। বেশ কিছু ফেরিওয়ালা (ঘুরে ঘুরে বিক্রেতা)-র মাধ্যমে এসব মশলা সাধারণ মানুষের ঘরদোরে পৌঁছে যাচ্ছে। এর ফলে মানুষ যেমন ঠকছেন, তেমনি স্বাস্থ্যের ওপর পড়ছে বিপজ্জনক প্রভাব।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ডোমকলের কিছু অঞ্চল বিশেষে দোকান খুলে ভেজাল মশলা বানানোর কাজ চলে দিনের পর দিন। অথচ প্রশাসন কিংবা খাদ্য নিরাপত্তা দফতরের তরফে কোনও পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজাল হলুদের মধ্যে থাকতে পারে ক্রোমিয়াম, যা কিডনি ও লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। একইভাবে, ভেজাল শুকনো লঙ্কা বা গরম মশলা হজমে গোলমাল, অ্যাসিডিটি, এমনকি লিভার সমস্যাও ডেকে আনতে পারে।

এই ঘটনার তদন্তের দাবি উঠেছে সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে। প্রশাসন এখনই নজর না দিলে আগামী দিনে তা ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *