‘একক শক্তিতে বাজিমাত অসম্ভব’-শাহ-সাক্ষাতের পর স্বমহিমায় দিলীপ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে একান্তে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর চেনা ছন্দে ফিরলেন বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দীর্ঘ প্রায় ৮-৯ মাসের ‘বনবাস’ বা রাজনৈতিক নিস্তব্ধতা কাটিয়ে শুক্রবার সকালে ইকো পার্কে মর্নিং ওয়াক করতে গিয়ে ফের স্বভঙ্গিমায় ধরা দিলেন তিনি। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য এবং সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে নিজের ‘ঘর’ ফিরে পাওয়া—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।

একক নেতৃত্বের তত্ত্বে না দিলীপের

এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ সাফ জানান, একক শক্তিতে পশ্চিমবঙ্গ জয় করা সম্ভব নয়। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “কোনো দল একজন ব্যক্তির ওপর চলতে পারে না। একক ভাবে কারোর পক্ষে রাজ্য জিতিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। যাদের অভিজ্ঞতা বেশি, যাদের পরিচিতি আছে, তাঁদের গুরুত্ব দিতেই হবে।” তাঁর এই মন্তব্যকে বর্তমান বঙ্গ বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনীতিকরা।

শীতঘুম’ ভাঙা ও বড় স্বীকৃতি

দীর্ঘদিন দলের কোনো বড় কর্মসূচিতে বা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভায় দিলীপ ঘোষের অনুপস্থিতি নজর কেড়েছিল। তাঁর কোনো পদ না থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত দলের ‘চাণক্য’ অমিত শাহ তাঁকে ডেকে বৈঠক করায় দিলীপের গুরুত্ব আবারও প্রমাণিত হলো। শুধু তাই নয়, সল্টলেক বিজেপি দফতরে দিলীপ ঘোষের জন্য বিশেষ ঘরের ব্যবস্থা করেছেন বর্তমান সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। একে দিলীপ ঘোষের ‘বড় স্বীকৃতি’ হিসেবেই দেখছেন তাঁর অনুগামীরা।

কুণাল ঘোষ ও জগন্নাথ দর্শন নিয়ে কটাক্ষ

কুণাল ঘোষের ‘ভাগ্য ফেরা’ সংক্রান্ত মন্তব্যের জবাবে দিলীপ ঘোষ বলেন, “উনি প্রবচন দিতেই থাকেন, লোকে মজা পায়। জগন্নাথ দেবের আশীর্বাদে আমার ভাগ্য নয়, বরং ২০২৬-এ রাজ্যের পরিবর্তন হবে।” দীঘার জগন্নাথ মন্দির দর্শনের বিতর্ককে ধামাচাপা দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, এখন তাঁর লক্ষ্য কেবল ছাব্বিশের মহারণ।

হুমায়ূন কবীর ও সংখ্যালঘু ভোট

মুর্শিদাবাদের নেতা হুমায়ূন কবীরের নতুন রাজনৈতিক দল এবং সংখ্যালঘু ভোট প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন দিলীপ। তিনি বলেন, “উনি সকালে একরকম বলেন, বিকেলে আরেকরকম। গতবার আইএসএফ নিয়ে চর্চা হলেও ফল কী হয়েছে সবাই দেখেছে। উনি যদি সত্যিই ব্রিগেডে ১০ লাখ মানুষ জমা করতে পারেন, তবেই বোঝা যাবে ওনার শক্তি।”

২০২৬-এর নীল নকশা: ফিরে পাওয়া আত্মবিশ্বাস

দিলীপ ঘোষের কথায়, দল মাঝে মাঝে ‘এক্সপেরিমেন্ট’ করে। এখন মানুষ ও কর্মীদের প্রতিক্রিয়া দেখে শীর্ষ নেতৃত্ব বুঝেছে যে ‘সবাইকে নিয়ে লড়তে হবে’। তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে দল তাঁকে যে দায়িত্বই দেবে, তিনি তা পালনে প্রস্তুত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *