নিউজ ফ্রন্ট, শক্তিপুর, মুর্শিদাবাদ | ২৫ অক্টোবর
ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর শনিবার নিজের বাড়িতে বললেন, দলের ভিতর থেকে বেআইনি ও অনৈতিক আচরণের বিরুদ্ধে তিনি অবশেষে সক্রিয় হচ্ছেন। বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অপূর্ব সরকারের বিরুদ্ধে তিনি সরাসরি আক্রমণ শানালেন এবং দাবী করলেন, প্রয়োজনে অধীর চৌধুরীর সাথেও সিট অ্যাডজাস্টমেন্ট করতে পারেন তবু অপূরবকে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করে সাধারণ জনমানুষের সামনে তুলে ধরবেন। তাঁর এই মন্তব্য তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বকে গভীর সংকটে ফেলেছে।
শক্তিপুরে শনিবার এক জরুরি বার্তায় হুমায়ুন কবীর বলেন, “রাজনীতিতে সবই সম্ভব। যে অধীর চৌধুরীকে ২০২৪ সালে হারিয়েছি, সেই অধীরের সঙ্গেও দরকার হলে সমঝোতা করব। কিন্তু অপূর্ব সরকারকে সাধারণ মানুষ হিসেবে নিশ্চিহ্ন করে দেব।” তিনি আরও জানান, রেজিনগর ও কান্দি — উভয় পার্টিতে তিনি লড়বেন; না পারলে নতুন কোনো প্রার্থী দাঁড় করিয়ে অপূর্বকে পরাস্ত করবেন।
হুমায়ুন অপূর্বের ওপর বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, অপূর্বই বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে ইডি’র মাধ্যমে গ্রেফতার করিয়েছেন এবং সে সম্পর্কিত সমস্ত নথি তাঁর কাছে আছে। সময় এলে সে তথ্য প্রকাশ করবেন বলে হুমায়ুন জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, “কান্দি পুরসভার অনেক হিন্দু কাউন্সিলর অপূর্বকে ভোট দেননি কেন তা খতিয়ে দেখা দরকার।”
হুমায়ুনের ধারাবাহিক দলবিরোধী মন্তব্যের পর তৃণমূলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি ইস্যুটি নিয়ে বৈঠকে বসছে। সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকের সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করা হবে মুখ্যমন্ত্রীকে। হুমায়ুন নিজে প্রকাশ্যে কোনো ভয় দেখাননি; বলছেন তিনি শোকজের জবাব দিয়ে এসেছেন, কিন্তু পর্যাপ্ত প্রতিক্রিয়া পাননি। তিনি দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে শুরু করে পরবর্তী শোকজ ও ওয়ার্নিং নোটিশের কাগজপত্র জমা দিয়েছেন, তবুও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে সন্তোষজনক জবাব নেই।
হুমায়ুন শৃঙ্খলা কমিটির কাজকেও প্রশ্ন করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, “শৃঙ্খলা কমিটির কনভেনার শোভনদেব বাবু আমার হাতে নোটিশ দেওয়ার আগেই সাংবাদিকদের কাছে তা দিয়ে দিয়েছেন।” এর ফলে তিনি বলেছেন, তৃতীয় নোটিশ এলে তা নিয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেবেন। আপাতত তিনি বলেন, এসব নিয়ে মাথা ঘামাবেন না এবং দলকে উত্তেজিত করে কোনো কাজে তিনি নিযুক্ত নন।
রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, হুমায়ুনের এই মন্তব্য তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ শাখায় সাম্প্রতিক কাল থেকেই চলমান ভেতরের গোষ্ঠীতন্ত্র ও নেতৃত্বসংকটকে আরও তীব্র করছে। অধিকন্তু অধীর চৌধুরীর নাম টেনে সম্ভাব্য সিট অ্যাডজাস্টমেন্টের কথাও উল্লেখ করে তিনি দলের রাজ্য নেতৃত্বকে জটিল পরিস্থিতির মুখে ফেলেছেন।
হুমায়ুন স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাবেন না। বলেন, “২০২৬ সালে ভোটে লড়ব জিতলে ভাল, নাহলে ওয়েলকাম। ২০২৭-এ প্রয়োজনে বিদেশ ভ্রমণ করব।” এছাড়া তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করেছেন, কোনো অতর্কিত মামলা যদি তাঁর বিরুদ্ধে করা হয়, থানা ঘিরে অনশন করবেন।
হুমায়ুন কবীরের বর্তমান অবস্থান ও বক্তব্য তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ শাখায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির বৈঠক ও তার পরবর্তী সিদ্ধান্ত ইস্যুটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আরও বিস্তৃত প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।